বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) জাতিসংঘের গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট (জিডিসি) প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। জিডিসি মূলত একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সুরক্ষিত ডিজিটাল ভবিষ্যত গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ।

জিডিসির মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বিভাজন দূর করা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সবার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে এটি এমন একটি ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, ডেটা ব্যবস্থাপনা হবে ন্যায়সঙ্গত ও আন্তঃপরিচালনাযোগ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হবে মানবকল্যাণের জন্য।

এ উদ্যোগ মূলত ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার জন্য জাতিসংঘের অধীনে একটি আন্তঃসরকারি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা। এটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো ও ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের আলোচনার ভিত্তিতে এবং চার বছরব্যাপী বৈশ্বিক পরামর্শের মাধ্যমে গঠিত এই কমপ্যাক্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

জিডিসি কার্যক্রমে সরকার, বেসরকারি খাত, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ ডিজিটাল ভবিষ্যত গড়ে তুলতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানায়।

বিএনএনআরসি ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট প্রক্রিয়ায় জাতীয় সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করছে। সংস্থাটি ডিজিটাল উন্নয়ন, ভুলতথ্য ও অপতথ্য মোকাবেলা ও অনলাইন স্পেসের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে ডিজিটাল রূপান্তর ও স্থানীয়ীকরণের ওপর কাজ করে আসা বিএনএনআরসি গণমাধ্যম উন্নয়নে নলেজ-ড্রাইভেন মডেলে কাজ করছে।

বিএনএনআরসি জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) ও ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের (ইসিওএসওসি) বিশেষ পরামর্শক মর্যাদাপ্রাপ্ত সংস্থা। এটি ২০১৬, ২০১৭, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ ও ২০২৩ সালে জাতিসংঘের ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার বিজয়ী ও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

—বিজ্ঞপ্তি