আইপিওর অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং পুঁজিবাজারের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সাত কর্মকর্তাকে মোট ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম, পরিচালক সুজিত সাহা, রাকিবুল ইসলাম ও আবুল কালাম ভুইয়ান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই আদেশে কোম্পানিটির সাবেক সিএফও মো. জিল্লুর রহমান এবং সাবেক কোম্পানি সচিব মো. জামির হোসেনকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তবে প্রসপেক্টাসে নির্ধারিত উদ্দেশ্য ও সময় অনুযায়ী ওই অর্থ ব্যবহার করতে পারেনি কোম্পানিটি। কমিশনের অভিযোগে বলা হয়, আইপিওর অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ পাবলিক শেয়ারহোল্ডারের অনুমোদন নেয়া হয়নি। এছাড়া প্রক্সি ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন নেয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।

ডিএসইর পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডমিনেজ স্টিল ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সিএসডি ডমিনেজ-৩’ নামে একটি ড্রেজার কেনে। তবে দীর্ঘ সময় সেটি ব্যবহার করে কোনো আয় করতে পারেনি কোম্পানিটি। ড্রেজারটির প্রস্তুতকারক ও মূল্যসংক্রান্ত তথ্যেও অসংগতি পেয়েছে ডিএসইর পরিদর্শন দল।

এছাড়া কোম্পানিটির আশুলিয়া ও নরসিংদীর কারখানা পরিদর্শনের সময় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া যায়। এ-সংক্রান্ত তথ্যকে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ না করার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। পরিদর্শনে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানা সম্প্রসারণে ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলে পরিদর্শন দল।

তবে শুনানিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ডমিনেজ। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আইপিওর অর্থ ব্যবহারে তারা প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করেছে এবং ড্রেজার কেনা, কারখানা সম্প্রসারণসহ অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কোনো অনিয়ম হয়নি।

ড্রেজার প্রসঙ্গে কোম্পানিটি জানায়, ‘সিএসডি ডমিনেজ-৩’ প্রকৃতপক্ষে ২০২৩ সালের মে মাসে প্রস্তুত অবস্থায় হস্তান্তর করা হয়। তবে সরকারি ড্রেজিং প্রকল্পের অভাবে সেটি থেকে আয় করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে কারখানা সম্প্রসারণের ব্যয় নিয়ে বিএসইসির হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে কোম্পানিটি। তাদের দাবি, কমিশনের ব্যবহৃত প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব অযৌক্তিক।

তবে ডমিনেজের এসব ব্যাখ্যা কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বিএসইসি বলেছে, আইপিওর অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং এ-সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন ব্যাহত করেছে বলে কমিশন মনে করেছে।

জরিমানার অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিএসইসির অনুকূলে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।