দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর গত জানুয়ারিতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। গত তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে প্রায় দেড় লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। এসব চালের মধ্যে রয়েছে চিকন মিনিকেট, টেন-টেন ও মোটা স্বর্ণা জাত। দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় আমদানীকৃত চালের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশী বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৫৫, টেন-টেন ৪৯ ও স্বর্ণা ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজেন্সির স্বত্বাধিকারী দীপংকর কুমার ঘোষ জানান, চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি করে তার প্রতিষ্ঠান। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে ভোমরা স্থলবন্দরে চাল আমদানি বন্ধ ছিল। এ বছরের জানুয়ারি থেকে আমদানি আবার চালু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৬০০ টন চাল আমদানি করে প্রতিষ্ঠান। এসব চালের মধ্যে রয়েছে চিকন মিনিকেট, টেন-টেন, স্বর্ণা ও মুড়ি চাল। এসব চাল সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবর আলী জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০৫ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৪ হাজার ১০৪ টন, ফেব্রুয়ারিতে ৬২ হাজার ৩১০ ও মার্চে ৫৫ হাজার ৮৯১ টন চাল আমদানি হয়। এসব চালের মূল্য ৪৯১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, এ বন্দর দিয়ে চাল, গম ও ভুট্টাসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য আমদানি হয়। তবে চাল আমদানি ২০১৭ সাল থেকে বন্ধ ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুনরায় চাল আমদানি শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোমরা বন্দর দিয়ে চাল আমদানি করছেন।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন বলেন, দেশী চালের তুলনায় দাম কিছুটা কম থাকায় আমদানীকৃত চালের চাহিদা বেশি। দেশী পুরনো ২৮ জাতের চাল প্রতি বস্তা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি ৫২-৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪২-৪৩ টাকায়। আমদানীকৃত মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশী জাতের মিনিকেট চাল ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।









