টেলিযোগাযোগ খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আয় ও নিট মুনাফা আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং নিট মুনাফা বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ৮ হাজার ১৫৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭ হাজার ৭৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ১৯৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ১ হাজার ৯৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে হয়েছিল ১৪ টাকা ৬২ পয়সা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ৪ হাজার ২২৩ কোটি ২ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪ হাজার কোটি ৮১ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৮৬১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৩৮ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ৮ টাকা ৮৪ পয়সা। এ বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ১৮ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৯ টাকা ৩৪ পয়সা। 

গ্রামীণফোনের পর্ষদ চলতি হিসাব বছরে ১৬০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৩ আগস্ট।  

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে গ্রামীণফোন বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ২২ টাকা ২৯ পয়সায়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়াস। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৪ টাকা ২২ পয়সায়। 

গ্রামীণফোনের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)। 

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ৫১০ কোটি ১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। 

ডিএসইতে গতকাল গ্রামীণফোন শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ২৫১ টাকা ৬০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২২১ টাকা থেকে ২৮৬ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।