অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকটির পর্ষদ বাতিলের এ আদেশ দেয়া হয়। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও আদেশের কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে গতকালই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্য সাত সদস্যের নতুন পর্ষদ গঠন করে দেয়া হয়েছে। নতুন পর্ষদে স্থান পেয়েছেন ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক পরিচালক জাকারিয়া তাহের ও মোয়াজ্জেম হোসেন। পাশাপাশি ব্যাংকটিতে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জুলকার নায়েন, সীমান্ত ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুখলেসুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন ও সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ মো. আব্দুস সাত্তার সরকার। এ সাতজনের মধ্য থেকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবেন।
গভর্নর স্বাক্ষরিত পর্ষদ বাতিলের আদেশে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার কারণে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি, ব্যাংকিং সুশাসন ও শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার মাধ্যমে ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে পর্ষদ সম্পৃক্ত থাকায় ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭ (১) ও ৪৮ (১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও জনস্বার্থে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের আদেশ প্রদান করা হলো।
প্রসঙ্গত, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদার ও তার পরিবারের সদস্যদের কর্তৃত্বে পরিচালিত হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক পর্ষদ। এ সময়ে ঋণ বিতরণের নামে ব্যাংকটিতে অবাদ লুণ্ঠন চলে। পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ব্যাংকটি থেকে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা বের করে নেয়া হয়। অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত ব্যাংকটি এখন বিপুল লোকসান, খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটে ভুগছে। অনিয়মের ভার বইতে না পারায় গত এক বছরে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ দুবার পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ গত মে মাসে সিকদার পরিবারের সব সদস্যকে বাদ দিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছিল।










