দেশে সব ধরনের ইন্টারনেট গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। কারফিউর কারণে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবস রবি ও সোমবার নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এতে বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজারের লেনদেনও। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি আর বাড়ানো না হলে আগামীকাল পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হবে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট চালু ও লেনদেন শুরুর মধ্যে যৌক্তিক সময় প্রত্যাশা করছেন ব্রোকাররা। নির্বিঘ্নে লেনদেন সম্পন্নের জন্য এটি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

গত কয়েক দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্টক এক্সচেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। তবে ইন্টারনেট না থাকার পাশাপাশি দেশব্যাপী কারফিউর কারণে গতকাল পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা যায়নি। যদি আগামীকাল মঙ্গলবারের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং সাধারণ ছুটি বাড়ানো না হয় তাহলে সেদিন পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু হবে। এক্ষেত্রে লেনদেন চালুর আগে ব্রোকারেজ ও স্টক এক্সচেঞ্জের সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা সেটি পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সব শাখা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে কিনা সেটি যাচাই করা প্রয়োজন। এজন্য লেনদেন শুরুর যৌক্তিক সময় আগে ইন্টারনেট চালু হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেন শুরুর ১০-১২ ঘণ্টা আগে ইন্টারনেট চালু হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা সবকিছু পরীক্ষা করে দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে সেটির সমাধানের জন্য সময় পাওয়া যাবে। তাছাড়া অতীত অভিজ্ঞতায় কারিগরি কোনো সমস্যার কারণে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হলে সেক্ষেত্রে অনেক সময় ধীরগতি দেখা গেছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে লেনদেনে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগবে। তবে ইন্টারনেট চালু হওয়ার বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভর করছে বিধায় এ বিষয়ে অনেকটাই অন্ধকারে রয়েছেন ব্রোকাররা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লেনদেন শুরুর আগে ট্রায়াল রানের মাধ্যমে সবকিছু ঠিক আছে কিনা সেটি যাচাই করা গেলে ভালো। এতে নির্বিঘ্নে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। এক্ষেত্রে লেনদেন শুরু হওয়ার যৌক্তিক সময় আগে ইন্টারনেট চালু হলে ভালো। তাছাড়া ইন্টারনেট চালু হওয়ার পরে এর গতি কেমন থাকবে সেটিও একটি বিষয়। পুরোপুরি গতিতে ইন্টারনেট পাওয়া গেলে কম সময়ের মধ্যেও আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব।’

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের দিক থেকে লেনদেন চালুর জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কারফিউ, সাধারণ ছুটি ও ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মঙ্গলবার লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে কিনা। যদি লেনদেন চালু করা সম্ভব হয় তাহলে এ বিষয়ে আজ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে।

জানতে চাইলে ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইন্টারনেটের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। আমাদের সবার প্রত্যাশা হয়তো আজকের মধ্যে ইন্টারনেট চলে আসবে। শুধু পুঁজিবাজার নয় অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের প্রয়োজন রয়েছে। এটি নিশ্চয়ই সরকারের বিবেচনায় আছে। মনে হয় সঠিক সময়ে ইন্টারনেট পেয়ে যাব। সাধারণ লেনদেনের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট প্রয়োজন হবে না। তবে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে লেনদেন ও ব্যাংকের মাধ্যমে সেটলমেন্টের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের প্রয়োজন আছে। আমরা সার্বিকভাবে সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। তবে সাময়িকভাবে হয়তো কিছু অসুবিধা হতে পারে। সেটা আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে। তবে আমি আশা করছি স্বাভাবিকভাবেই লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে।’