নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ডালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সব রকমের ডালের দাম কেজিতে ৩-৫ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ সংকট, টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, এলসি জটিলতাসহ নানা কারণে বাজারে ডালের দাম বাড়ছে।
বাজার সূত্র বলছে, দেশীয় ডালের ব্যবসার সিংহভাগই নিয়ন্ত্রণ করে বড় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ডালের গোটা আমদানি করে নিজস্ব মিলে ভেঙে তারা যে দামে বিক্রি করে, সে অনুযায়ীই বাজারদর নির্ধারণ হয়।
নিতাইগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব আমদানিকারক বা কোম্পানি থেকে ডাল এনে কেজিপ্রতি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা লাভে বিক্রি করে থাকে।
নিতাইগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৪ টাকা কেজি দরে। গত দুই সপ্তাহ আগেও একই ডাল বেচাকেনা হয়েছিল ১২২ টাকায়। এ হিসেবে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ টাকা। দিল্লি সুপার ডাল বাজারে ১৩২ টাকা থেকে বেড়ে কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৩ টাকা।
তবে দুই সপ্তাহ ধরে ১০২ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে আন্তা বোল্ডার মসুর ডাল। আর বোল্ডার ফাটি মসুর ডাল ৯৬ টাকা থেকে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০১ টাকায়।
চোনা বুট বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৮৪ টাকা কেজি দরে। একই ডাল কয়েকদিন আগেও ছিল ৮২ টাকা। সে হিসেবে চোনা বুটের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ টাকা। প্রতি কেজি খেসারি ডালের দাম বেড়েছে ২ টাকা করে। ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে এ জাতের ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৭ টাকায়।
নিতাইগঞ্জে মোটা মুগ ডালের দামও কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়েছে। গতকাল এ জাতের ডাল লেনদেন হয়েছে ১১৮ টাকায়। গত সপ্তাহে একই জাতের ডাল বিক্রি হয়েছে ১১৬ টাকায়। আর অ্যাঙ্কর ডাল বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি দরে। গত এক মাস ধরে একই দামে বিক্রি হচ্ছে অ্যাঙ্কর ডাল। অপরিবর্তিত রয়েছে ডাব্লি ডালের দামও। বেশ কিছুদিন ধরে কেজিপ্রতি ৫৪ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে এটি।
ডাল ব্যবসায়ী বিকাশ সাহা বলেন, ‘ডালের বাজার এক-দেড় মাস ধরে বাড়তির দিকে। আমদানিকারক ও মিল মালিকরা যে দাম নির্ধারণ করেন আমাদের সে দামেই কিনে আনতে হয়। সেখান থেকে সামান্য লাভে আমরা বিক্রি করে থাকি।’
আরেক ডাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, বাজারে ডালের দাম যে হারে বাড়ছে, সে হারে বিক্রি বাড়ছে না। এ মৌসুমে ডালের দাম বাড়ার কথা নয়। কিন্তু তার পরও দাম বাড়তির দিকে।










