দেশব্যাপী কারফিউ ও সাধারণ ছুটির কারণে চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে কোনো লেনদেন হয়নি দেশের পুঁজিবাজারে। গতকাল কারফিউ শিথিলের পাশাপাশি অফিস ও ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হওয়ায় লেনদেনে ফিরেছে পুঁজিবাজারও। লেনদেনের প্রথম দিনই পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। একদিনেই পৌনে ২ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক। দৈনিক লেনদেন কমেছে ৫৭ শতাংশ। গতকাল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল বেলা ১১টায় লেনদেন শুরুর পরই শেয়ার বিক্রির চাপে পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। প্রথম ঘণ্টার পর সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলে শেয়ার বিক্রির চাপে তা স্থায়ী হয়নি। গতকাল দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৯৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস প্রায় ২২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০। এদিন সূচকটি প্রায় ৪৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), রেনাটা, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের।

ডিএসইতে গতকাল ১৫৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সে হিসাবে গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন কমেছে ৫৭ শতাংশ। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২০টির, কমেছে ৩৫৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির বাজারদর। 

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেনের ২৪ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেন ছিল ব্যাংক খাতের দখলে। 

আর ১৩ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৭ দশমিক ২ এবং প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে সব খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ২ দশমিক ৫৬ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। 

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল প্রায় ১২৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৯ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৯ হাজার ৩৭১ পয়েন্টে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ২০৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৫ হাজার ৫৬৬ পয়েন্টে। সিএসই ৩০ সূচক এদিন ১৯৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ১২ হাজার পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১২ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৪২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ছয়টির, কমেছে ১২৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১০টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।