নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের নতুন গ্রন্থ ‘জিওপলিটিক্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক শিফটস ইন সাউথ এশিয়ান/সাবকন্টিনেন্টাল কান্ট্রিস’–এর মোড়ক উন্মোচন হয়। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন এসআইপিজির পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ তৌফিক এম হক। তিনি অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এসআইপিজি কেবল জ্ঞান উৎপাদন করে না, বরং নীতিনির্ধারণেও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। আমাদের শিক্ষক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সম্প্রতি গঠিত সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।‘
বইটিতে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন তার পূর্ববর্তী গবেষণা ও প্রকাশনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে এসআইপিজির প্রকাশনার অংশ হিসেবে প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘ইলেকটোরাল গভার্ন্যান্স ইন বাংলাদেশ’। আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমি পিএইচডি শেষ করে এসআইপিজিতে যোগদানের সময় আমার শিক্ষক প্রফেসর সালাহউদ্দিন আমিনুজ্জামান এই গবেষণা শুরু করার পরামর্শ দেন। এই বইটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি বোঝার জন্য একটি দিকনির্দেশনা। আমি প্রথম অধ্যায়েই বলেছি—যে সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, সে-ই বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে। আজকের বিশ্বে পূর্ব-পশ্চিমের সংঘাত ইউরেশিয়ান হার্টল্যান্ডে কেন্দ্রীভূত। মোগলরা সমুদ্রের গুরুত্ব অনুধাবন করতে না পারায় এবং শক্তিশালী নৌবাহিনী না থাকায় পরাজিত হয়েছিল। আমার বইয়ে ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ এবং পাকিস্তান-ভারতের ভূরাজনৈতিক উত্তরণ কিভাবে আঞ্চলিক রাজনীতিকে চিরতরে পাল্টে দিয়েছে, সেটিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।‘
বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জনাব এম. এ. কাশেম, এসআইপিজির পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ তৌফিক এম হক, এবং বইটির লেখক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন।
রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান বইটির প্রাসঙ্গিকতা ও বিশ্লেষণধর্মী লেখনীকে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে এই সময়োপযোগী বইয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। যদিও বিষয়বস্তু গভীর, বইটি অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপিত। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা প্রতিযোগিতাপূর্ণ; চীনের বিআরআই-এর মতো উদ্যোগ প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাব ফেলছে। প্রশান্ত মহাসাগরে যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, তা ভারত মহাসাগরেও ছড়িয়ে পড়ছে। এমন প্রেক্ষাপট আমি আগে কোনো বাংলাদেশী বইয়ে পাইনি।‘
ড. রেমন্ড লাউ বইটির তথ্যবহুল ও গবেষণাধর্মী দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘এই বইটি দক্ষিণ এশিয়া ও আঞ্চলিক রাজনীতির উপর একটি তথ্যের ভাণ্ডার। বিষয়বস্তু অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবে আমার মতে, চীনের বর্তমান আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা ভবিষ্যতে যুক্ত করা যেতে পারে।‘
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জনাব এম. এ. কাশেম বইটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এনএসইউ-এর একাডেমিক উৎকর্ষ ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। শেষে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক সংলাপের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।‘
এই অনুষ্ঠান এসআইপিজি এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়। নীতি ও প্রশাসনবিষয়ক গবেষণায় এসআইপিজি দেশের অন্যতম অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মসূচি, গবেষণা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত ও একাডেমিক জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
-বিজ্ঞপ্তি










