দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৩০৬টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানার প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার শ্রমিক কাজ না করে বের হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। রাজধানীর ডিএমপি এলাকার মিরপুরেও শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে দেশের পাঁচটি প্রধান শিল্পাঞ্চলের মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৩০৬টি কারখানার মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় ১৬১টি, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ৯৩টি এবং ডিএমপি এলাকায় ৫২টি কারখানা রয়েছে। ডিএমপি এলাকার বন্ধ কারখানাগুলো মিরপুরে অবস্থিত। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এলাকায় শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনো ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।
এলাকাভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে মোট ৮৩৬টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬১টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানায় কাজে যোগ দেননি ৪ লাখ ২৯ হাজার ২৭৩ জন শ্রমিক।
সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় মোট কারখানা রয়েছে ৪৪১টি। এর মধ্যে ৯৩টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এ অঞ্চলে কাজে যোগ দেননি ২ লাখ ২৪ হাজার ৩২০ জন শ্রমিক।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫২টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ৪১ হাজার ২০০ জন কাজে যোগ দেননি। বন্ধ কারখানাগুলো মিরপুর এলাকায় অবস্থিত।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জে ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামে ৩৪০টি কারখানার তথ্য রয়েছে। এসব এলাকায় শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা কাজে যোগ না দেওয়ার কোনো ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।
পরিসংখ্যানে পাঁচটি শিল্পাঞ্চল মিলিয়ে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮২৮টি কারখানা খোলা থাকার তথ্য দেয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ কারখানার সংখ্যা ৩০৬টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।










