আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে নতুন করে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে জ্বালানি নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। একই সঙ্গে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) কাঠামো শক্তিশালী ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অ্যামচেম নেতারা। মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় বৃহস্পতিবার শুরু হবে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল জানান, আগামী চার বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর এ বিনিয়োগের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ। তবে জ্বালানি নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ পাওয়া গেলে শুধু মার্কিন নয়, অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে।’

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার দুই বছরের কথা বলছে। কিন্তু আট মাস ধরে আমরা সেই দুই বছরের কথাই শুনছি। এখন এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। একইভাবে আইপিআর কাঠামো উন্নত করতে হবে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবেশ তৈরি করা। আর বিনিয়োগ আনার কাজটি আমাদের।’ এ বিষয়গুলো সহজ ও স্বচ্ছন্দ হলে বিনিয়োগ আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এলডিসি উত্তরণ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অ্যামচেম সভাপতি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণে হাতে তিন বছর নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এখনই সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করতে হবে।’

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইসিটি, সাইবার নিরাপত্তা, সেমি-কন্ডাক্টর ও লাইট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রফতানি বহুমুখীকরণেও গুরুত্ব দিতে হবে।’ তৈরি পোশাক রফতানিতে নেতৃত্ব ধরে রাখার পাশাপাশি অন্য খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের তিন দশক উদযাপনে বৃহস্পতিবার থেকে ইউএস ট্রেড শোর ৩০তম আসর শুরু হবে। এবারের প্রদর্শনীতে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান ৬৩টি বুথ নিয়ে অংশ নেবে। থাকবে ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন নতুন আয়োজন।

প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীতে থাকছে খাতভিত্তিক পৃথক জোন। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, এফএমসিজি, উৎপাদন ও লজিস্টিকস, শিক্ষা ও উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য থাকবে স্টার্টআপ জোন। এছাড়া দর্শনার্থীর জন্য কার্নিভাল জোন ও হেরিটেজ কর্নার রাখা হয়েছে। কার্নিভাল জোনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার সুযোগ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচেমের সহসভাপতি আলা উদ্দিন বলেন, ‘ছয়টি সেমিনারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি, আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, অর্থনীতিতে নারীর অগ্রগতি, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে।’ এসব আয়োজন থেকে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিভিন্ন সুপারিশ উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট এবং অ্যামচেমের কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদসহ সংগঠনটির নেতারা।