দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এর আগে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের এক দফার অধীন ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকেই তা উত্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার জন্যই ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হয় এবং তা অনুমোদন পায়। লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং বা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে এটি এখন বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য পাঠানো হবে।
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা আইন চূড়ান্ত অনুমোদন
একই বৈঠকে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকারি ক্রয়ের মূল আইনি কাঠামো “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬” এ পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬” জারি করা হয়। ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের জন্য নতুন সংশোধনী আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।’
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা, সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র, নারী ও সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন, সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থা চালুর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খসড়া আইনটি জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এদিকে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির খসড়া তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন সরকারি ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে আগামী বছর সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২২ দিন।
গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নাসিমুল গনি বলেন, ‘২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর মধ্যে চারদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন—দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার। এছাড়া বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন সরকারি ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনদিন সাপ্তাহিক ছুটি—একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত ২৯ দিনের ছুটির মধ্যে সাতদিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যত ছুটি পাওয়া যাবে ২২ দিন।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এর বাইরে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বছরে অনধিক তিনদিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ উৎসব উদযাপনে দুইদিন ঐচ্ছিক ছুটির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।’










