১০০ বছর বয়সেও ওং হাই লান প্রতিদিন হাজির হন তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘খেং তং’ কফি শপে। রান্নাঘরের মূল দায়িত্ব সামলান তার ৭০ বছর বয়সী মেয়ে ফু কিয়া বোই। মা ও মেয়ের এ যুগলবন্দি টানা ৬৫ বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী এক হাইনানিজ কফি শপকে।

মালয়েশিয়ার মেলাকা শহর ও জোহরের মুয়ার অঞ্চলের মাঝামাঝি জায়গায় মারলিমায়ুর অবস্থান। ভৌগোলিক কারণে এ পথ দিয়ে যাতায়াত করা ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি আদর্শ বিরতিস্থল। কফি শপটির একটি বিশেষ পদ ‘ব্রেজড পোর্ক ফ্রাইড বিহন’ (এক ধরনের ভাজা নুডলস) এখন দূর-দূরান্তের ভোজনরসিকদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ পদটির আবিষ্কারের গল্প বেশ চমৎকার। শুরুর দিকে কফি শপের আশপাশের অন্য হকাররা ক্যানে ভরা প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়ে আসতেন ফু কিয়া বোইয়ের কাছে। তারা ফুকে অনুরোধ করতেন সে মাংস দিয়ে কাঠকয়লার আগুনে বিহন বা নুডলস ভেজে দেয়ার জন্য। এভাবে রান্না করতে গিয়েই একদিন মা ও মেয়ের মনে হয়, এ দুই উপাদানের মিশ্রণ অসাধারণ এক স্বাদ তৈরি করছে। এর পর থেকেই কফি শপের সিগনেচার ডিশ বা প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে এটি।

কফি শপের বর্তমান চালক ফু কিয়া বোই জানান, ১৯৬০ সালে একটি সাধারণ পাতায় ছাওয়া ঘরে (আটাপ হাউজ) কফি শপের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময় ১৯৭০ সালে এটি বর্তমানের পাকা ভবনে স্থানান্তর হয়। ফু শৈশব থেকেই তার মায়ের সঙ্গে দোকানে কাজ করছেন।

২০১১ সালের উপনির্বাচনের সময় এলাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। তখনই মূলত তাদের বিশেষ খাবারের কথা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।

ফু বলেন, ‘আমরা কখনো নিজেদের কোনো বিজ্ঞাপন দিইনি। গ্রাহকরা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের কথা জেনে এখানে আসেন। এমনকি কুয়ালালামপুর থেকে জোহর যাওয়ার পথে অনেকে শুধু এ নুডলস খাওয়ার জন্য মারলিমায়ুতে গাড়ি থামান।’

কফি শপটি প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বান ও ডিমসাম বিক্রি শুরু করে। মূল রান্না বা কড়াইয়ের খাবারগুলো পাওয়া যায় সকাল ১০টা থেকে। বেলা ৩টা-৪টার মধ্যে দোকান বন্ধ হয়ে যায়। পারিবারিক কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দোকান সাধারণত বন্ধ থাকে না, কোনো নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক ছুটিও নেই।

৭০ বছর বয়সে এসেও অবসরের কোনো পরিকল্পনা নেই ফু কিয়া বোইয়ের। তিনি জানান, পরিবারের নতুন প্রজন্ম এখন কুয়ালালামপুর বা সিঙ্গাপুরের মতো বড় বড় শহরে চাকরি করছে। ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ব্যবসা ধরে রাখার ব্যাপারে তরুণদের কোনো আগ্রহ নেই।

ফু বলেন, ‘যেহেতু আমার কোনো আর্থিক বীমা বা ইন্স্যুরেন্স সুবিধা নেই, তাই জীবিকার তাগিদে ও ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাকে এ বয়সেও কাজ করে যেতে হবে।’

খবর ও ছবি কোরিয়া হেরাল্ড