জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কারাজীবন, তার সাহিত্য ও রাজনৈতিক ভাবনার অভিজ্ঞতার প্রভাব নিয়ে বিশেষ একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

সম্প্রতি আইইউবির স্ল্যাশ ফ্যাকাল্টি লাউঞ্জে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অ্যান্ড আব্বাসউদ্দীন আহমদ রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডি সেন্টার (কেএনআইএএআরএসসি)। অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক ছিল আইইউবির লিটারেচার ক্লাব।

‘কবি কাজী নজরুল ইসলামের কারাজীবন’ শিরোনামের মূল বক্তা ছিলেন বাংলা একাডেমির মানবসম্পদ উন্নয়ন উপবিভাগের (আইনবিষয়ক) উৎপাদন কর্মকর্তা শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তিনি নজরুলের সৈনিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে তার বিদ্রোহী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন।

এ সময় আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে কারাবাস কবির ভাষা, ভাবনা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। তিনি নজরুলের বিখ্যাত কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ আবৃত্তি করেন। এই কবিতার কারণেই নজরুলকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগার বিভাগের পরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, নজরুলের লেখার ভাষা ও আবেগ সবসময় ছিল তীব্র ও প্রাণবন্ত। তিনি নজরুলের ধূমকেতু, ভাঙার গান ও দোলনচাঁপা গ্রন্থের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কারাবন্দি অবস্থাতেই নজরুলের লেখা হয়েছে সবচেয়ে গভীর ও প্রতিবাদী কিছু সাহিত্যকর্ম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড বলেন, তারুণ্যের হৃদয়ে যে আগুন থাকে, সেটিই বিদ্রোহ ও কবিতার জন্ম দেয়। অনেক বড় শিল্পী বা বিপ্লবী তাদের ভাষা খুঁজে পান বিশ বছর বয়সেই। সে আগুন যেন নিভে না যায়, বরং বিকশিত হোক।

অনুষ্ঠানে আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে সাহিত্য, প্রতিবাদ ও নজরুলের চেতনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন শিক্ষার্থীরা।

সভাপতিত্ব করেন কেএনআইএএআরএসসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমেদ আহসানুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইইউবির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়াম বিনতে হাসান ফারিন। —বিজ্ঞপ্তি