দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতির উন্নয়ন, শ্রুতিলেখক নীতিমালা প্রণয়ন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়নকর্মীরা।

বুধবার (২৮ মে) বাংলা একাডেমির শামসুর রহমান মিলনায়তনে স্বাধীন জীবনযাত্রা কেন্দ্র কৃষ্টির আয়োজনে ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা পদ্ধতির সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী। সভার সভাপতিত্ব করেন কৃষ্টির সহ-সভাপতি ইফতেখার মাহমুদ।

আলোচনা সভার শুরুতে কৃষ্টি পরিচালিত দুটি গবেষণার প্রবন্ধের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। এরপর গবেষক ফয়সাল মাহমুদ, তাসনিন সুলতানা ও লোকেন দে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উন্নয়নকর্মীরা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষা এখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় শিক্ষার মানে একধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে আরো কার্যকর করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা জাতীয় পর্যায়ে ব্রেইল রিসোর্স সেন্টার গঠনের প্রস্তাব দেন।

অধ্যাপক রফিকুল আবরার জানান, সভায় ওঠা সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে ও দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করবেন।

প্রকৌশলী অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, বুয়েটে ব্রেইল শিক্ষায় ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

গবেষণা উপদেষ্টা নুসরাত জেরিন জয়া বলেন, কৃষ্টির এই গবেষণা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণের রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষ্টির গবেষণা কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ।

—বিজ্ঞপ্তি