নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে আবারো বেড়েছে চিনির দাম। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পাইকারি বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২৪-১২৫ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকা কেজি দরে।
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের কয়েকদিন আগেই বাজারে চিনির চাহিদা বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে দেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, মিল থেকেই তাদের বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে।
চিনি ব্যবসায়ী দীলিপ সাহা বলেন, ‘মিল গেট থেকেই চিনির দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে আমাদের মিল থেকে ডিউ কাটতে হয়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এ দামের বাইরে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।’
নিতাইগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী নারায়ণ সাহা জানান, সরকার চিনির আমদানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। চিনির বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁচামালের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর পরও ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমাফিক দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। রোজার শুরুতে যে চিনি পাইকারি বাজারে বেচাকেনা হয়েছে ১০৯-১১০ টাকা কেজি দরে, সে চিনির দাম বেড়ে ১২৪-১২৫ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। মূলত মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে কোনো কারণ ছাড়াই মিল গেট থেকে দাম বাড়িয়ে ডিউ বিক্রি করছেন। অনেক মিল স্পেশাল ডিউ বিক্রি করছে। অর্থাৎ যারা বেশি দাম দিয়েছে, তাদের ট্রাক দ্রুত ছাড় করে দিয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বিকল্প ডিউ নিয়ে মিল থেকে চিনি ছাড় করিয়ে আনছেন।
নিতাইগঞ্জের আহসান উল্লাহ ট্রেডার্সের আহসান উল্লাহ বলেন, ‘বাজারে চিনির কোনো সংকট ছিল না। কিন্তু কেন এত দাম বাড়ল তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের বেশি দামে কিনে তার ওপর ভিত্তি করে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
মাসদাইরের খুচরা ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন দাবি করেন, নিতাইগঞ্জের পাইকারি দোকান থেকে এক বস্তা চিনি তাদের কিনতে হচ্ছে ১২৫ টাকা কেজি দরে। নিতাইগঞ্জ থেকে মাসদাইর বাজারের দোকানে নিয়ে যেতে ৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এছাড়া এক বস্তা চিনি খুচরা বিক্রি করতে হলে প্রায় এক কেজি চিনির ঘাটতি হয়। তার ওপর দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে হয়। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির সুযোগ নেই।










