গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনে ফিরেছে। অন্যদিকে গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তি ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কারণে তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জকে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলোর অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছে সামিট পাওয়ার।
তথ্যানুসারে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে বন্ধ থাকা সামিট পাওয়ারের তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে আশুলিয়া পাওয়ার প্লান্ট (ইউনিট-১), মাধবদী পাওয়ার প্লান্ট (ইউনিট-১) ও জাঙ্গালিয়া পাওয়ার প্লান্ট। এর মধ্যে আশুলিয়া ও মাধবদী বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) পক্ষ থেকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্র দুটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া জাঙ্গালিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন চালুর বিষয়ে কারিগরি সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এ কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সামিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে পাঁচটির উৎপাদন চালু রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে চান্দিনা পাওয়ার প্লান্ট (ইউনিট-১), রূপগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট, মাওনা পাওয়ার প্লান্ট, উল্লাপাড়া পাওয়ার প্লান্ট ও মদনগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট।
অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সামিট পাওয়ারের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৫০ পয়সা।
সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সামিট পাওয়ার। আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।
সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৭২ পয়সা।
২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে সামিট পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২৫ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৭২ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সায়।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২১ শেষে সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সা। আর এ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৮ টাকা ৫৩ পয়সা।
কোম্পানিটির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’, স্বল্পমেয়াদে যা ‘এসটি-১’। কোম্পানিটির ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
২০০৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ারের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ১০৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৯। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ১৮ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সামিট পাওয়ারের শেয়ার সর্বশেষ ২২ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরের কোম্পানিটির শেয়ার ২০ টাকা থেকে ৩৪ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।










