পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেছেন, ইপিআর বাস্তবায়ন হলে শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গতকাল রাজধানীর হাটখোলায় এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে আয়োজিত ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এবং আমরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার প্লাস্টিক খাতকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রফতানি খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট জারি করেছে। এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর। ইপিআর বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ অনেকটা সম্ভব হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইপিআর পরিবেশ দূষণ রোধে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক প্লাস্টিক বাজারের ৫৭০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বাংলাদেশের অংশ। বাংলাদেশ সরকার এ খাতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্লাস্টিক শিল্প উন্নয়ন নীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রতিযোগিতামূলক ও নতুন নতুন বাজার তৈরি হওয়ায় চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্লাস্টিক পণ্য রফতানি বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ।’

সেমিনারে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রম ও মূলধনকে একত্র করে প্লাস্টিক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ বাজার এবং রফতানিমুখী বাজার উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বার্ষিক মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার ২০০৫ সালে তিন কেজি থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৯ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। ঢাকায় বার্ষিক মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার ২৪ কেজি। ইপিআর বাস্তবায়িত হলে আমাদের সার্কুলার ইকোনমিতে যেমন অবদান রাখবে, তেমনি পরিবেশ দূষণ রোধেও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।’

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই-আইআরসির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান এম এ এ মোমেন, বিপিজিএমইএ সভাপতি শামিম আহমেদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ, এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের অন্যান্য পরিচালক ও দেশের বিভিন্ন চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল ও কান্ট্রি হেড ব্রিটিশ কাউন্সিল মি. শ্যানন ওয়েস্ট।