দেশে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হলো। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা অনলাইনে সহজে পেটেন্ট, নকশা ও ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে তাদের ব্যবসা সুরক্ষিত থাকবে ও বাজারে সক্ষমতা বাড়বে বলে জানিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘শিল্প সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ৪.০’ (আইপিএএস ৪.০) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের এই স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালুর ফলে মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, নবায়ন ও আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে জানানো হয়।

শিল্প উপদেষ্টা বলেন, এই সফটওয়্যার বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার কারিগরি সহায়তায় তৈরি ও বিশ্বজুড়ে বহু দেশে সফলভাবে ব্যবহৃত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাসম্পদ সেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে তারা এখনো মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এ বিষয়ে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াবে।

তিনি জানান, এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা, আসিয়ান মেধাস্বত্ব দপ্তর ও ইউরোপীয় মান অনুযায়ী মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এটি ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মেধাস্বত্ব দপ্তর গঠনে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, এই সফটওয়্যার চালুর ফলে গবেষক, উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ীরা আরো দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন। এতে বাংলাদেশের মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার প্রতিনিধি হিশাম আদেল এলহোসেইনি ফায়েদ, পেটেন্ট, নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূর, বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম ও বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম।

বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার প্রতিনিধি তার উপস্থাপনায় আইপিএএস ৪.০ সফটওয়্যারের বিভিন্ন দিক ও সুবিধা তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। —বিজ্ঞপ্তি