নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ফের বেড়েছে ডালের দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে কেজিপ্রতি বিভিন্ন প্রকার ডালের দাম বেড়েছে ৭ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে তরকারির দাম বাড়লে বাজারে ডালের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দামে প্রভাব পড়ে।
নিতাইগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশী মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১৫ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১০ টাকা। সে হিসেবে এ ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। দিল্লি সুপার মসুর ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ১১৫ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১৪ টাকা। সে হিসেবে দিল্লি সুপার ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১ টাকা। এছাড়া দিল্লি সুপার চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০-১২২ টাকা। ফলে এ ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা।
দামে কিছুটা সস্তা হওয়ায় বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা আস্ত মসুর ডালের। এ ডালের বর্তমান বাজার কেজিপ্রতি ৮৮ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৮৩ টাকা। সে হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদার শীর্ষে থাকা ডালটির দামও বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা।
এদিকে ভাঙা মসুর, মুগ ডাল ও ডাবলি ডালের বাজার প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে বেচাকেনা হচ্ছে ৭০ টাকা, ৯৮ টাকা ও ৫০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে বাজারে ছোলার কেজি ৬০ টাকা। একই ডাল সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকা দরে। বেড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ব্যাপক চাহিদায় থাকা খেসারি ডালের দামও। বর্তমানে প্রতি কেজি খেসারি ডাল কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬৭ টাকা। সে হিসেবে এ ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ টাকা।
নিতাইগঞ্জের ডাল ব্যবসায়ী বিপ্লব সাহা বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে বাজারে ডালের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে তরিতরকারির দাম কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে ওই সময় ডালের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দামও কিছুটা বাড়ে। তবে ডাল মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। এক-দেড় মাস ধরেই ডালের বাজার নিম্নমুখী ছিল। কয়েকদিন ধরে দাম কিছুটা বেড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ দেশে ডালের যে উৎপাদন হয়, তা খুবই কম। চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে ডাল আমদানি করতে হয়। আগে নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামের আমদানিকারকদের কাছ থেকে ডাল কিনে এনে নিজেদের মিলে ভাঙিয়ে বিক্রি করতেন। কিন্তু চার-পাঁচ বছর ধরে বড় বড় করপোরেট কোম্পানি আধুনিক অটোমেশিন নিয়ে আসার কারণে এখানকার মিলগুলো টিকতে পারছে না। ফলে নিতাইগঞ্জের প্রায় সব মিলই বন্ধ হয়ে গেছে। নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এখন করপোরেট মিলগুলো থেকে পণ্য এনে গোডাউনে রেখে পাইকারি বিক্রি করে আসছে। ফলে করপোরেট মিলগুলো যে দাম নির্ধারণ করে বাজারে বিক্রি করছে নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা তাদের বেঁধে দেয়া দাম থেকে এক বা আট আনা কেজিপ্রতি লাভে বেচাকেনা করছে। মূলত দাম বাড়ানো বা কমানোর পুরোটাই নির্ভর করছে করপোরেট কোম্পানিগুলোর ওপর।’









