দেশের বৃহত্তম সুতার পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে কমেছে রফতানি মানের সুতার দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের সুতার দাম কমেছে ৩-৪ টাকা। এছাড়া অন্যান্য মানের সুতার দর মাস খানেক ধরে অপরিবর্তিত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন সুতা বিক্রির উপযুক্ত মৌসুম। কারণ ঈদ সামনে রেখে তাঁতিদের কাপড় উৎপাদনে এখন সুতা নেয়ার কথা। কিন্তু এ ভরা মৌসুমেও বিক্রি আশানুরূপ বাড়েনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে ১০ কাউন্টের সুতা প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪২-৮৫ টাকায়। এক মাস ধরে এ কাউন্টের সুতার দাম অপরিবর্তিত। আর ২০ কাউন্টের সুতা বিক্রি হচ্ছে ৮৫-১৩২ টাকা, যা ২০ দিন ধরে অপরিবর্তিত।

রফতানি মানের সুতা হিসেবে পরিচিত ২৪, ২৬, ২৮ ও ৩০ কাউন্টের সুতা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪৮-১৫৫ টাকা পাউন্ড দরে, যা সপ্তাহ খানেক আগেও ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। এ হিসাবে দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ২-৫ টাকা।

কমেছে ২৬, ২৮ ও ৩০ সিভিসি কাউন্টের সুতার দামও। বর্তমানে এ সুতাগুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১৮ টাকা পাউন্ড দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২৪ টাকা। এ হিসাবে দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ৬ টাকা। প্রতি পাউন্ড ৪০ কাউন্টের সুতার দাম ১৬৫-১৭২ টাকা, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিত।

বাজারে এখন ৫০ কাউন্টের সুতা বিক্রি হচ্ছে ১৮৪-১৯২ টাকা পাউন্ড দরে। প্রতি পাউন্ড ৬০ কাউন্টের সুতা মানভেদে ২০৫-২২০ টাকার মধ্যে দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল। ৮০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ২৮০-২৯০ টাকা দরে। এটির দামও অপরিবর্তিত।

সুতা ব্যবসায়ী ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘করোনার পরে স্পিনিং মিলগুলো হঠাৎ সুতার দাম বাড়িয়ে দেয়। আর কমেনি। সে বাড়তি দামেই এখনো সুতা বেচাকেনা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দাম পাউন্ডপ্রতি ৪-৫ টাকা কমে আবার কয়েক দিন পর বাড়ে। এখন এভাবেই চলছে। কিন্তু সুতার দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাপড়ের দাম না বাড়ায় তাঁতিরা কাপড় উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে সুতার বাজারে। এ কারণে বেচাকেনায় মন্দা।’

বাংলাশে ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা বলেন, ‘মাস খানেক ধরে দাম স্থিতিশীল থাকলেও বিক্রি কমে গেছে। মাস তিনেক পরে ঈদ। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সুতা বিক্রি হচ্ছে না। তার মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকটসহ নানা জটিলতায় আগে যে সুতার দাম বেড়েছিল তা আর কমেনি। বাড়তি দামের কারণে তাঁতিরা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।’