ওষুধ ও রসায়ন খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসির পর্ষদ সভা ২৮ মার্চ বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৪০৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১১০ টাকা ৮২ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ টাকা ৫২ পয়সা। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮৯ টাকা ৬২ পয়সায়।
রেকিট বেনকিজার সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৯৮০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৩৯ টাকা ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৭১ টাকা ৩ পয়সা। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৭৬ টাকা ৮০ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২০০ টাকা ৬৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে জন্য বিনিয়োগকারীদের ১ হাজার ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১ হাজার ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৯ হিসাব বছর কোম্পানিটি ১ হাজার ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। তার পূর্বে ২০১৮ সালে ৭০০ শতাংশ নগদ, ২০১৭ সালে ৭৯০ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ৭৭৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৫ সালে ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
১৯৮৭ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসির অনুমোদিত মূলধন ২৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৭ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে মূল কোম্পানি যুক্তরাজ্যভিত্তিক রেকিট বেনকিজার পিএলসির কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ৩ দশমিক ৭৭, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৬৮, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৭৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইতে বৃহস্পতিবার রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৪ হাজার ৮৭২ টাকা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৪ হাজার ৭৬০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ হাজার ২৭১ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।










