আইইউবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আহরণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে ‘রিসোর্স মোবিলাইজেশন: প্রায়োরিটাইজেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সরকার বড় বাজেট প্রস্তাব করে থাকে। সে দিক থেকে জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ঘাটতি রেখে সম্প্রসারণমূলক বাজেট প্রস্তাবকে খারাপ বলা যাবে না।’
রাজস্ব আহরণকে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বেশ উচ্চাভিলাষী। বর্তমান সক্ষমতা, কর কাঠামো ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থাপনার বিবেচনায় এক বছরের মধ্যে কর আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো কঠিন হবে।’
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়ন ও তদারকির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বরাদ্দের দিক থেকে বাজেট ঠিকই আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই তার যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত হয় না।’
মূল প্রবন্ধের পর প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ড. শামসুদ্দিন আহমদ।
আইইউবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার কবীরের সঞ্চালনায় আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্যানেল আলোচকরা কর্মসংস্থান, কর ব্যবস্থা, রাজস্ব আহরণ, জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড। প্যানেল আলোচকদের পরিচয় করিয়ে দেন বিজনেস স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. রাইসুল আউয়াল মাহমুদ। সমাপনী বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. খালেদ সাইফুল্লাহ।










