পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেডের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কর-পরবর্তী নিট লোকসান বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৫৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ২ দশমিক ২৩ গুণ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৮ পয়ষা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৩৬ পয়সায়।
লোকসানের কারণে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির নিট লোকসান কমেছে ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ৩৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৯ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়ায় ১৮ টাকা ৫১ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৮ টাকা ১৩ পয়সা।
এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা অনলাইনেও এতে অংশ নিতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট আগামী ৯ মে।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়ায় ১৮ টাকা ১৩ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৭ টাকা ৫৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্যও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি।
১৯৯০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন দেড় হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬৬৪ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৬ কোটি ৪৭ লাখ ২ হাজার ৩০০। এর মধ্যে ৫২ দশমিক ৭৬ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, দশমিক ১৭ শতাংশ সরকার, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৪ টাকা ১০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৩ টাকা ৮০ থেকে ৫ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠানামা করেছে।










