মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কফি রফতানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখেছে ভিয়েতনাম। এক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর দেশটি পানীয় পণ্যটি রফতানির মাধ্যমে ৪০০ কোটি ডলার আয় করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর ভিয়েতনাম নিউজ।

ভিয়েতনামের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (এমএআরডি) দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি ৩১০ কোটি ডলারের কফি রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। রফতানিযোগ্য কফির দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮০ ডলারে। 

এমএআররি তথ্যে দেখা গিয়েছে, ভিয়েতনামের কফি ব্যবহারের দিক থেকে এখনো শীর্ষস্থান ধরে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বছরের প্রথম আট মাসে ব্লকটির বাজার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশে। এ সময় ইইউ ভিয়েতনাম থেকে ১১০ কোটি ডলার মূল্যে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ টন কফি ক্রয় করেছে। পরিমাণের দিক থেকে আমদানি ২৭ শতাংশ এবং মূল্য মানের দিক থেকে ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমএআরডির ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিভাগের তথ্য বলছে, ইউরোপের মধ্যে বেলজিয়াম, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও পর্তুগালে ভিয়েতনামের কফি রফতানি ব্যাপক বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ২০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছানো সত্ত্বেও ইউরোপের দেশগুলোয় অব্যাহত কফি রফতানি বাড়াচ্ছে ভিয়েতনাম।

ইউরোপের বাইরে অন্যান্য বাজারেও কফি রফতানিতে লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি এসেছে। এর মধ্যে রাশিয়ায় রফতানি ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৫৭ দশমিক ৯, ভারতে ১১৬ এবং মেক্সিকোয় ৫২ গুণ বেড়েছে।

মূলত কভিড-১৯ ভাইরাসের প্রভাব কমে যাওয়ায় প্রধান প্রধান বাজারগুলোয় কফি রফতানি আবারো বাড়াতে সক্ষম হয়েছে ভিয়েতনাম। তবে প্রধান প্রধান উৎপাদক দেশগুলোয় বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিপর্যস্ত উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনে সংকটের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে কফি ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষে যুক্তরাজ্য। এর পরই জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনের অবস্থান। ভিয়েতনামের কফি রফতানির বড় একটি অংশই যায় যুক্তরাজ্যে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ভিয়েতনাম যুক্তরাজ্যে ৩৪ হাজার ৭০০ টন কফি রফতানি করেছে। যার মূল্য ৭ কোটি ৭ লাখ ডলার। পরিমাণের দিক থেকে রফতানি ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মূল্যমানের দিক থেকে ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।