ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছরজুড়ে যে পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছিল, এ বছরের প্রথম ১০ মাসেই তার চেয়ে বেশি আমদানি করা হয়েছে। মূলত রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে অঞ্চলটি। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন শীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যেই বিকল্প উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করছে ব্লকটি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠেছে।
কেপলারের প্রাক্কলন বলছে, জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সব মিলিয়ে সাড়ে ১০ হাজার ঘনফুট এলএনজি আমদানি করেছে। ২০২১ সালে বছরজুড়েই আমদানি করা হয়েছিল ৭ হাজার ৮১০ কোটি ঘনফুট।
চীন একসময় বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক দেশ ছিল। এ বছর ইইউর মোট আমদানি দেশটির আমদানিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ বছরের প্রথম ১০ মাসে চীন আমদানি করেছে ৬ হাজার ৯৯০ কোটি ঘনফুট এলএনজি।
ব্লকটির আমদানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে বেলজিয়াম। দেশটি রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার পর বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছিল।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জির দেয়া তথ্য বলছে, ২০২১ সালে ইইউর মোট আমদানীকৃত গ্যাসের ৪৫ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। গত বছর রাশিয়া ব্লকটিতে সরবরাহ করেছে ১৫ হাজার ৫০০ ঘনফুট গ্যাস। তবে এ বছর দেশটির সরবরাহ প্রায় এক-তৃতীয়ংশ কমেছে।
কেপলারের এলএনজি বিষয়ক বিশ্লেষক লরা পেইজ বলেন, এ বছর শেষে ইইউর মোট এলএনজি আমদানি দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩০০ কোটি ঘনফুটে। গত বছর ইউরোপে গ্যাস ব্যবহারের ১৮ শতাংশই পূরণ করেছে এলএনজি। এ বছর তা বেড়েছে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এদিকে ইইউ এলএনজি আমদানি বাড়ানোয় বিপাকে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। কারণ ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে ধনী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে দেশগুলোকে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর সংকটের মধ্যে রয়েছে এলএনজি বৈশ্বিক বাজার। আগামী বছর সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে। সম্প্রতি এ কথা বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল।
ইউরোপ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে রাশিয়ার ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্লকটি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এলএনজি আমদানি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে।










