ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আগে অর্ধশতাধিক পণ্য ভারতে রফতানি হতো। আর এখন রফতানি
হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য। মূলত এখন হিমায়িত মাছের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে বন্দরের রফতানি বাণিজ্য। তবে মাছ রফতানি কমার কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আখাউড়া
স্থলবন্দর দিয়ে রফতানি হয়েছে ৩৭৬ কোটি ২৩ লাখ টাকার
পণ্য, যা এর আগের
অর্থবছরের তুলনায় ৩০৪ কোটি টাকা কম। এছাড়া তলানিতে ঠেকে আছে বন্দরের আমদানি বাণিজ্যও। ফলে আশানুরূপ রাজস্ব পাচ্ছে না বন্দর ও
শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছর পাঁচেক আগেও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রফতানি হওয়া পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, পাথর, রড, সিমেন্ট, তুলা, ভোজ্য তেল, এলপি গ্যাস, প্লাস্টিক, শুঁটকি ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীসহ অর্ধশতাধিক পণ্য। তবে সময়ের পরিক্রমায় ছোট হয়ে এসেছে সেই তালিকা। বর্তমানে হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট ও প্লাস্টিকসহ হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য যাচ্ছে ভারতে। রফতানীকৃত পণ্যের অর্ধেকই হিমায়িত মাছ। আর মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, পুঁটি, পাঙাশ, তেলাপিয়া ও পাবদাসহ সব ধরনের চাষের মাছ। প্রতি কেজি মাছের রফতানি মূল্য আড়াই ডলার। প্রতিদিন (ছুটির দিন ব্যতীত) গড়ে এক থেকে দেড় লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয় ভারতে। তবে কয়েক মাস ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রফতানি কমেছে। আগে প্রতিদিন ৫০-৬০ টন মাছ রফতানি হলেও এখন তা কমে অর্ধেকে নেমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বন্দরের রফতানি আয় কমেছে। মূলত সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তাজা মাছ পাচারের কারণে রফতানি কমছে বলে অভিযোগ রফতানিকারকদের।
আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘আখাউড়া উপজেলার সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত তাজা মাছ পাচার হচ্ছে। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হিমায়িত মাছের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বিষয়টি বিজিবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এটি বন্ধ করতে না পারলে হিমায়িত মাছের রফতানি বন্ধ হয়ে পড়বে।’
এদিকে, ভারত থেকে পণ্য আমদানিও এখন অনিয়মিত। আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতে রফতানি হয়েছে ৩৭৬ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার ৯১১ টাকার পণ্য। আর ভারত থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ৯৩ লাখ ৬১ হাজার ৫২৮ টাকার পণ্য। আমদানি পণ্য থেকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ রাজস্ব পেয়েছে ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯৮ টাকা। তবে বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতে রফতানি হয়েছিল ৬৮০ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার ১৭৪ টাকার পণ্য। ওই অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ২৮৮ কোটি ৪১ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৮ টাকার পণ্য।
স্থলবন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে সড়ক ও রেল যোগযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অনেক পণ্য এখন নিজ দেশ থেকেই সংগ্রহ করেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। ফলে রফতানি বাণিজ্য ফের বাড়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে আমদানি বাণিজ্যের মাধ্যমে এখনো বন্দরটির ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। সেজন্য যখন যে পণ্যের চাহিদা, সেটি আমদানির সুযোগ দিতে হবে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আহমেদ খলিফা বলেন, ‘সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে কিছু পণ্যের তালিকা দিয়ে আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটির এখনো সুরাহা হয়নি। একমাত্র আমদানি বাণিজ্যের মাধ্যমেই বন্দরে আবার কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে আসতে পারে।’









