নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে সুতার দাম নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ভালো থাকায় এবং গার্মেন্টস শিল্পে বিদেশী বায়ারদের অর্ডার কমে যাওয়ায় সুতার বাজারদর কমতির দিকে। বিভিন্ন কাউন্টের সুতার দাম প্রকারভেদে কমেছে ৫-১০ টাকা।

টানবাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০ কাউন্টের সুতা প্রকারভেদে বেচাকেনা হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা পাউন্ড দরে, যা দুই সপ্তাহ ছিল ৭৫-৮৫ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ৫ টাকা।

২০ কাউন্টের টানা সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ১০৩-১২২ টাকা পাউন্ড দরে, যা কয়েকদিন ছিল ১০৮-১২৫ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ৪ টাকা। 

২০ কাউন্টের বাইন সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা পাউন্ড দরে, যা বেশ কিছুদিন আগেও ছিল ৯৫-১০৫ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ৫ টাকা।

২৪, ২৬, ২৮ ও ৩০ কাউন্টের গার্মেন্টস কোয়ালিটির সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ১৩২-১৩৫ টাকা দরে। আর ভালো কোয়ালিটির স্পিনিং মিলের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ১৩৮-১৪০ টাকা দরে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৩২-১৩৮ টাকা পাউন্ড দরে। সে হিসাবে দাম কমেছে ৩-৪ টাকা।

৪০ কাউন্টের সুতা প্রকারভেদে বেচাকেনা হচ্ছে ১৫০-১৬৫ টাকা দরে, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১৫৫-১৭০ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ৫ টাকা।

৫০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ১৮০-২০৩ টাকা দরে, যা আগে ছিল ১৮৫-২১০ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ৭ টাকা। ৬০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ২৬০-২৭২ টাকা পাউন্ড দরে, যা ১৫ দিন আগেও ছিল ২৬৫-২৮২ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে প্রায় ১০ টাকা।

৮০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ২৮৫-৩০৫ টাকা পাউন্ড দরে, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ২৯০-৩১৫ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ১০ টাকা।

বাংলাদেশ ইয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি লিটন সাহা জানান, বাজারে সুতার দাম নিম্নমুখী হলেও বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে সুতা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও টানবাজারে ক্রেতা নেই। টানবাজারের সুতার সবচেয়ে বড় গ্রাহক তাঁতি ও হোসিয়ারি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। কোরবানির ঈদের পর থেকেই বাজারে বেচাকেনা কম। কারণ তাঁতি বা হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা নতুন করে কাপড় উৎপাদন করছেন না। দু-তিন সপ্তাহ ধরে সুতার বাজারে বেচাকেনায় খুবই মন্দা।

সুতা ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, টানবাজারে সুতা বেচাকেনায় মন্দা যাচ্ছে। বাজারে সুতা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতা নেই। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের তাঁতিরা কাপড় উৎপাদন করলে বাজারে গ্রে কাপড়ের দাম তেমন বাড়েনি। যে কারণে তাঁতিরা কাপড় উৎপাদন কিছুটা কম করছেন।