বাংলাদেশ
রেলওয়ের চলমান সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা
সেতু রেল সংযোগ। প্রকল্পটির
মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা থেকে যশোর
পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায়
১৭০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ। মাঠ
পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে
গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)। রেলপথ ও
প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ
প্রকল্পের আওতায় রেললাইনের পাশে একাধিক গ্রাম,
বাংলাদেশী হাসপাতাল, সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ স্টেশনগুলোয়
মহামারী প্রতিরোধের উপকরণ বিতরণ করেছে সিআরইসি। মহামারী প্রতিরোধের উপকরণে প্রায় ৯ লাখ ৮০
হাজার আরএমবি (চীনের মুদ্রা) ব্যয় করা হয়েছে।
এর বাইরে প্রকল্পের বিভিন্ন শাখা প্রায় ১
দশমিক ৩৩ মিলিয়ন আরএমবি,
মোটাদাগে বলতে গেলে ২
দশমিক ৩১ মিলিয়ন আরএমবি
মূল্যের উপকরণ বিতরণ করেছে। এটি সিআরইসির করপোরেট
সামাজিক দায়বদ্ধতাকেই প্রতিফলিত করে। এছাড়া প্রতিবছর
সিআরইসি শিক্ষা সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালিত করে থাকে বই
ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র প্রদানের মাধ্যমে। পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশী কর্মীদের সন্তানদের সেবা প্রদান করে।
জুন-সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে বর্ষাকাল। এ সময় ভারি
বর্ষণে রাস্তাঘাটের ক্ষতি সাধন ও ব্যাপক
ভূমিক্ষয় হয়। ফলে যাতায়াত
ব্যবস্থা গাড়ি চলাচল ও
বাসিন্দাদের জন্য অনিরাপদ হয়ে
পড়ে। ওই সময় এসব
সংকট মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেয়
সিআরইসি।
২০২২
সালের জুনের শেষে ধারাবাহিক ভারি
বর্ষণে ২০ বছরের মধ্যে
বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা সংঘটিত হয়। বৃষ্টি ও
বন্যায় সিলেটের উত্তর-পূর্ব শহরের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি
আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত
হয় এবং ৪৫ লাখ
মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে কিংবা বিপদাপন্ন অবস্থায় পড়েছে। সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণের পর, সিআরইসি দ্রুত
পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সে সময়
সিআরইসি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক
দলের সঙ্গে দুর্যোগ ত্রাণ অনুদান প্রদানের জন্য সহযোগিতা করে।
১ হাজার ৭৫০ কেজি চাল,
৪৫০ কেজি ভোজ্যতেল, ৭২০
কেজি ময়দা, ৭০০ গ্রাম চিনি
ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য বিতরণ করে। এ সহযোগিতা
সিলেটের বন্যা দুর্গতদের সাহস ও আশা জুগিয়েছিল।
এখন
পর্যন্ত সিআরইসি ২০ কিলোমিটারের বেশি
স্থানীয় রাস্তা নির্মাণ ও ১০০ মিটারের
বেশি একটি ইস্পাত ট্রাস
সেতু নির্মাণে সহায়তা করেছে। এন ৮০৫ রাস্তার
(ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-মোল্লারহাট-ফকিরহাট-মোল্লাপাড়া সড়ক) দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে
৩ লাখ ৩ হাজার
ডলার বিনিয়োগ করেছে। জনগণের জন্য ২০০টিরও বেশি
কূপ খননের জন্য বাংলাদেশী মুদ্রায়
মোট ১ কোটি টাকা
ব্যয় করে। এর বাইরেও
সিআরইসি 'চীন-বাংলাদেশ যুব
কর্মসংস্থান কর্মসূচি' গড়ে তুলেছে। প্রাথমিকভাবে
এ কর্মসূচির জন্য সিআরইসি প্রকল্পের
ব্যয় থেকে অর্থায়ন করা
হয়। সিআরইসির অধীন চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি
এবং বিশিষ্ট বাংলাদেশী উদ্যোক্তারাও এ কর্মসূচির পৃষ্ঠপোষক।
এ কর্মসূচি বাংলাদেশের বহু যুবককের জন্য
অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এটি
প্রায় সাত হাজার চাকরির
পদ তৈরি করবে, যা
'বেল্ট অ্যান্ড রোড' যুব উদ্যোক্তা
ও কর্মসংস্থান ক্ষমতায়ন প্রকল্পে অবদান রাখবে।
২০২৩
সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত,
আত্ম-কর্মসংস্থান ও মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলোর
সুপারিশের মাধ্যমে ৪৯১ জন বাংলাদেশী
পরিচালন কর্মী (চারজন বাংলাদেশী চীনা শিক্ষার্থীসহ) এবং
শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে ৫
হাজার ৪১৮জন। ব্যবসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ৪
হাজার ৭৬০ জন ব্যক্তিকে।
দক্ষতা মূল্যায়ন করেছে ৪৬২ জন। চাকরির
জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩২০ জন। শ্রমবাজার
প্রতিযোগিতায় ৪ হাজার ৭৬০
জন অংশ নিয়েছেন এবং
কর্মসূচির প্রথম ধাপের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করেছেন।










