ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। তবে একই সময়ে কোম্পানিটির আয় কমেছে। কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের আয় হয়েছে ১৭১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৭ কোটি টাকায়। সে হিসাবে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২১ টাকা ৪৪ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১৯ টাকা ২ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৬৫ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৯ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৭ টাকা ৯০ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ২১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ২৪০ শতাংশ নগদ ও ৬০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬০ টাকা ৬৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৩৯ টাকা ৬০ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১২২ টাকা ৮৮ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৪৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার। ২০২০ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের ৪৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আগের হিসাব বছরের জন্য ৫৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডকে ইউনিলিভার কর্তৃক অধিগ্রহণের পর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে কোম্পানিটির নতুন নাম হয় ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড। ২০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের পরিশোধিত মূলধন ১৯ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৮। এর মধ্যে ৯১ দশমিক ৬২ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৫৬, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ১১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১ হাজার ৮০১ থেকে ২ হাজার ৯৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।










