[গতকালের পর]

কর্মস্থলে নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণে একটা প্রতিষ্ঠানের নেতাদের ভূমিকাই মুখ্য। এ নেতাদের মধ্যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ভূমিকা বিশদভাবে আলোচনার অপেক্ষা রাখে। এখন আলোচনা করা যাক কী কী কারণে তারা তাদের মালিকাধীন অফিস, কারখানা, দালান, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি এবং তাদের কর্মীদের সব ধরনের দুর্যোগ-দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে আগ্রহী হতে পারেন এবং সেই লক্ষ্যে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রবৃত্ত হতে পারেন। 

প্রথম কারণটি হলো তাদের মালিকানা বোধ (সেন্স অব ওনারশিপ)। এ মালিকানা বোধ থেকেই যেকোনো মানুষ সাধারণত তার মালিকানাধীন সম্পদ রক্ষা করতে চায়। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও তাদের কারখানা, অফিস ভবন, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি রক্ষার চেষ্টা করেন এবং অনেক ব্যবস্থা রাখেন। কিন্তু সেই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো প্রধানত চুরি-ডাকাতি থেকে রক্ষার জন্য। অথচ অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য দুর্যোগ থেকে সম্পদ রক্ষা করার জন্য তাদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। তাদের এ মানসিকতাটা কিছুটা আশ্চর্যজনক। এর একটা কারণ হতে পারে যে, তারা মনে করেন তস্কর রোধক সুরক্ষা ব্যবস্থার (যেমন একটা দালান কিংবা কারখানাকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ রাখা, দারোয়ান কিংবা নিরাপত্তা কর্মীকে দিয়ে পাহারা দেয়া ইত্যাদি) তুলনায় দুর্যোগ রোধক সুরক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। কিন্তু এটাও চিন্তা করা দরকার যে, দুর্যোগ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য অর্থমূল্য (প্রোবেবল মনিটারি ভ্যালু) চুরি-ডাকাতি থেকে ক্ষতির সম্ভাব্য অর্থমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তবে এ বিষয়টা বুঝতে হলে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মতো গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এ ধরনের পদ্ধতি আমাদের ব্যবসায়িক শ্রেণী ব্যবহার করছেন বলে এ লেখকের জানা নেই। তবে দুর্যোগের সম্ভাব্যতা এবং তা থেকে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের সচেতনতা যদি তৈরি হয়, তাহলে তারা তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করে এবং এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সেবা নিয়ে তাদের কার্যালয়গুলোয় দুর্যোগ ঝুঁকির মূল্যায়ন করে যথাযথ সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে পারবেন। তাছাড়া আরেকটা বিষয় তাদের বিবেচনায় রাখতে পারেন। সেটা হলো, তাদের মালিকানা বোধ শুধু বস্তু সম্পদের জন্যই থাকলে চলবে না, মানবসম্পদের জন্যও থাকতে হবে। এ মানবসম্পদ হলো কতগুলো রক্ত-মাংসের মানুষ। একটা আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় এ মালিকানা বোধ মানে সেই প্রাচীন কালের দাস ব্যবস্থার মতো ক্রীতদাসের ওপর কর্তৃত্ব নয়; বরং কর্মীদের জীবিকা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ববোধ। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তারা নিজেদের নিছক মালিকের চেয়ে কর্মীদের রক্ষক-অভিভাবক হিসেবে দেখবেন। যখন দুর্যোগ ঝুঁকি সম্পর্কে অধিকতর সচেতনতা, ঝুঁকির পরিমাণগত মাত্রা বিশেষ করে অর্থমূল্য নির্ণয়ে সক্ষমতা এবং কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ববোধ এসব উপাদান নিয়ে তাদের মধ্যে মালিকানা বোধ গড়ে উঠবে, তখন তারা তাদের মালিকানাধীন কার্যালয়ে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আগ্রহী হবেন। 

দ্বিতীয় কারণটি হলো ব্যবসায়ের মালিকদের অনেকে নিজেদের দেশের কল্যাণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক মনে করেন। এ ধারণাটা উন্নত বিশ্বে করপোরেট নাগরিকত্ব"হিসেবে বেশ পরিচিতি এবং প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ ধারণা বাংলাদেশে এখনো বহুল পরিচিত নয়। যেহেতু বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, তাই দেশের অর্থনীতির এ অগ্রযাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যবসায়ীদের ভালো করপোরেট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দাতব্য কাজে অনুদান, জনহিতকর কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়া এবং এমনকি তাদের কর্মীদের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ভালো করপোরেট নাগরিক হিসেবে কাজ করছে। নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে তারা তাদের করপোরেট নাগরিকত্বকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আমরা এটা আশা করতে পারি যে, তারা আগের ব্যবসায়ীদের চেয়ে অনেক অগ্রসর চিন্তা ধারণ করেন এবং সেই কারণে তারা তাদের ব্যবসাগুলোকে নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলে নিজেদের ভালো করপোরেট নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণের তৃতীয় কারণ হলো, এটা ব্যবসায়ীদের আয় ও মুনাফা বাড়িয়ে দিতে পারে। নিরাপত্তার জন্য খ্যাত একটা কোম্পানি অপেক্ষাকৃতভাবে যোগ্যতর ও দক্ষতর কর্মীদের আকর্ষণ করতে পারে। ফলে একটা নিরাপদ কর্মপরিবেশ ব্যবসাটার উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। নিরাপদ কর্মস্থল তৈরি হলে দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় হতাহত কর্মী ও তাদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যয় বেঁচে যায়। এছাড়া যখন কোনো ব্যবসায়িক কার্যালয় পুড়ে যায় বা ধসে পড়ে, তখন মালিককে প্রচুর ব্যয়ে কার্যালয়টি পুনর্নির্মাণ বা মেরামত করতে হয়। তার আগে কার্যালয়টিকে বন্ধ রাখতে হয় এবং উৎপাদন ও ব্যবসায়িক লেনদেনও বন্ধ থাকে। আয়-উপার্জনও বন্ধ থাকে। পরিশেষে কোনো দুর্ঘটনায় একটি কোম্পানি সুনাম হারাতে পারে। তার ফলে কার্যালয়টি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের পর আবার যখন চালু হয়, তখন দুর্ঘটনা-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ক্রেতা সংখ্যা এবং বিক্রি কমে যেতে পারে। তাতে আয়-উপার্জনও কমে যাবে। অতীতের দুর্ঘটনাগুলোর পর এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি তেমনভাবে ব্যবসার মালিকদের সামনে আসেনি। কিন্তু বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডের পর এ ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে আসছে। এ অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের রেস্তোরাঁগুলোই বন্ধ হয়ে যায়নি, ওই এলাকার অন্য রেস্তোরাঁগুলোর ব্যবসাতেও ভাটা পড়েছে। এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির অর্থমূল্য নির্ধারণের একটা উপায় হলো সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মতো গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা। এ পদ্ধতির কথা এ নিবন্ধের পূর্ববর্তী অংশে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে বিশ্লেষণের পর হয়তো দেখা যাবে, দুর্যোগ থেকে ঘটা ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য অর্থমূল্য একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির খরচের চেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে একটা প্রতিষ্ঠান যদি তাদের কার্যালয়গুলোয় নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং কার্যকর করতে পারে তাহলে এ ক্ষতিগুলো এবং সংশ্লিষ্ট খরচ এড়াতে পারে এবং তাদের নিট মুনাফা বাড়াতে পারে। 

নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণের জন্য ব্যবসার মালিক ছাড়া অন্যান্য অংশীজনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য প্রত্যক্ষ অংশীজনদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শ্রমিক, অন্যান্য কর্মী, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা। পরোক্ষ অংশীজনদের মধ্যে আছে চেম্বারস অব কমার্স, শ্রমিক ফেডারেশন, অন্যান্য শ্রমিক অধিকার ও কল্যাণ সংস্থা, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সরকার। ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের চেম্বার অব কমার্সগুলো তাদের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করতে পারে এবং দেশের সব কার্যালয়ে নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণ প্রচেষ্টায় উদ্যোগ নিতে, সহায়তা করতে এবং নেতৃত্ব দিতে পারে। শ্রমিক ফেডারেশন এবং অন্যান্য শ্রমিক অধিকার ও কল্যাণ সংস্থাগুলোর মূল ম্যান্ডেট হলো শ্রমিকদের স্বার্থ, অধিকার এবং কল্যাণের জন্য কাজ করা। সেজন্য দেশের সব কার্যালয়ে নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণ প্রচেষ্টায় তারাও উদ্যোগ নিতে পারে। কার্যালয়ের নিরাপত্তা দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্য এবং শারীরিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য দেশের সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন ভোক্তা কল্যাণ সংস্থা, দেশের সব কার্যালয়কে নিরাপদ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জনমত তৈরি এবং গণসচেতনতা সৃষ্টি ও লালন করার জন্য কোনো দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো গণমাধ্যম। এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে নিরাপত্তার ইস্যুতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম তার এ ভূমিকা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে। গণমাধ্যমের কর্মী এবং নেতারা স্বতঃপ্রবৃত্ত নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণের ধারণাটার পক্ষে জনমত ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন এবং সব অংশীজনদের উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। নিরাপত্তা প্রবিধান (সেফটি রেগুলেশনস) প্রয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করার বদলে তাদের নিজস্ব সংস্থাগুলোয় নিরাপত্তা সংস্কৃতি তৈরি করে উপকৃত হতে পারেন। এটি তাদের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের কাজে অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ করবে এবং নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে আরো বেশি নিষ্ঠাবান করবে।

নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণের সহায়ক অর্থায়ন কীভাবে করা যায়

আগের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে তৈরি পোশাক শিল্পে সুষ্ঠু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ হলো বিদেশী পোশাক আমদানিকারকদের অর্থায়ন। এখন প্রশ্ন হলো অন্যান্য শিল্পে কোনো বাইরের অর্থায়ন ছাড়া নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব কিনা। এ লেখকের মতে প্রশ্নটার উত্তর হলো—হ্যাঁ সম্ভব। এ নিবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এবং নিজ ব্যয়ে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়তে পারে। সেটা করার জন্য কী ধরনের আর্থসামাজিক এবং নৈতিক প্রণোদনা (মালিকানা বোধ, করপোরেট নাগরিকত্ব, সম্ভাব্য মুনাফা বৃদ্ধি ইত্যাদি) বর্তমান অবস্থায় বিদ্যমান, তা নিয়ে এ নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তার সঙ্গে অর্থায়ন সহায়ক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো অর্থায়ন ছাড়া নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণ এবং নির্বাহ করার ব্যয় সংকুলান করা কিছুটা দুরূহ হতে পারে।

এ অর্থায়নের কিছু উপায় এখানে আলোচনা করা যেতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমবায় পদ্ধতিতে একটা সাধারণ নিরাপত্তা তহবিল তৈরি করতে পারে। যেমন দেশের বিভিন্ন চেম্বার অব কমার্স, দোকানদার সমিতি ইত্যাদি সংগঠন সদস্যদের দেয়া চাঁদার ভিত্তিতে এ ধরনের তহবিল তৈরি করতে পারে এবং সেই তহবিল থেকে প্রতিটি সদস্যকে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ার জন্য আর্থিক অনুদান দেয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এ ধরনের অর্থায়ন হবে সম্পূরক; নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুরো খরচ এ তহবিল থেকে আসবে না। তার সঙ্গে অর্থায়ন ব্যবস্থাটাকে ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য সাশ্রয়ী করার জন্য তাদের খরচের সিংহভাগ সাধারণ তহবিল থেকে দেয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বড় ব্যবসাগুলোর নিরাপত্তা খরচের সিংহভাগ তারা নিজেরাই বহন করতে পারে। বড় বড় বাণিজ্যিক ভবনের মালিকরা এবং সেখানে স্থাপিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তভাবে পুরো ভবনের জন্য একটা দুর্যোগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে এবং তার অর্থায়ন করতে পারে। এ বিষয়ে আরো অনেক চিন্তাভাবনার অবকাশ আছে। এখানে উল্লেখযোগ্য, এই একই ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশে নেয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কার্যালয়ের ধারণাটা এখন সারা পৃথিবীতে সুপ্রতিষ্ঠিত। ট্রেভেল পার্ক নামক এক পর্যটন কোম্পানির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত পৃথিবীতে সবুজ কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৬ হাজার (ট্রেভেলপার্ক.কম, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪)। বাংলাদেশেও এখন অনেক সবুজ কোম্পানি তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে তার সংখ্যা ২০৯ (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪)। সবুজ কোম্পানির আদলে বাংলাদেশ এখন নিরাপদ কোম্পানি গড়ার উদ্যোগ নিতে পারে।

কিছু সুপারিশ 

পরিশেষে কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষায় সব অংশীজন একত্রিত হতে পারেন এবং সব কার্যালয়ে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী সঙ্ঘবদ্ধ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে পারে। সরকার যদি ইচ্ছা করে তবে নিরাপত্তা প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে বৈরী অবস্থান না নিয়ে বরং দেশব্যাপী নিরাপত্তা সংস্কৃতি নির্মাণ আন্দোলনের পুরোভাগ থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে। এ প্রচেষ্টার একটা বড় অংশ থেকে দেশজুড়ে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়, নিরাপত্তা সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য প্রচার অভিযান চালানো এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। আমরা যদি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে একটি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, তখন শুধু আইন পালন ও জবাবদিহিতার ধারণার বাইরে গিয়ে শ্রমিক, কর্মী ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার জন্য টেকসই একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারব। [শেষ]

ড. মোহাম্মদ হারুন উজ জামান: পারমাণবিক প্রকৌশলী