দেশে বিদ্যমান উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এক্ষেত্রে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আরো কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ফ্যামিলি কার্ড ছাড়াই খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থা, যা সংকটের সময় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। 

বণিক বার্তায় প্রকাশ, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ছাড়াও ঢাকায় খোলা ট্রাক থেকে কম দামে দুই কেজি করে ডাল, আলু ও পেঁয়াজ এবং দুই লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করা হবে। মঙ্গলবার থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫-৩০টি ট্রাকে করে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এর আওতা বাড়ানো হবে।

খোলা ট্রাক থেকে ৬০ টাকা কেজিতে ডাল, ৩০ টাকায় আলু, ৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ ও ১০০ টাকা লিটার দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করা হবে। যে কেউ এসব পণ্য কিনতে পারবেন। এসব পণ্যের সংগ্রহ বাড়াতে পারলে বিক্রির আওতাও বাড়ানো হবে।

তবে শুক্র ও শনিবার ঢাকায় খোলা ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রি বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সময়ে সব দিনই এ কর্মসূচি চলবে। প্রতিদিন ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন স্পটে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। রাজধানীকেন্দ্রিক এ কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা শহরে অনেক মানুষের চাপ থাকায় দ্রব্যমূল্য বেশি থাকে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য আসে, পরিবহন ব্যয় যোগ হয়, সব মিলিয়ে দাম একটু বেশি থাকে। সেজন্য খোলা ট্রাক থেকে কম দামে পণ্য বিক্রি করা হবে। সব শ্রেণীর নাগরিক এসব পণ্য কিনতে পারবেন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩ লাখ মানুষের টিসিবি কার্ড আছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব জানিয়েছেন, সারা দেশে টিসিবি কার্ডধারী এক কোটি পরিবার গত বছরের মার্চ থেকে তিনটি পণ্য পাচ্ছে। এর সঙ্গে গত জুলাই থেকে পাঁচ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে।

টিসিবির এ ধরনের ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে তা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনে স্বস্তি এনে দেবে। এজন্য কার্যক্রমটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পূর্ণ মাত্রায় নিশ্চিত করতে হবে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা ও ডলার সংকটের ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে বলা হচ্ছে। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া-কমার ওপর পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়। তবে এর সঙ্গে সিন্ডিকেটের যোগসূত্রের বিষয়টিও বারবার সামনে উঠে এসেছে। এজন্য সম্প্রতি ডিম ও আলু আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। মোদ্দা কথা, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তেল, চিনি, ডাল, আলু আমদানি করতে যেন ডলারের সমস্যা না হয়, সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আমরা টিসিবিকে সবসময় কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চাই। রাষ্ট্রীয় এ সংস্থা এখন সাধারণ মানুষের নির্ভরতার দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। যে কারণে রোদে পুড়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য সংগ্রহ করছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় আরো কিছু পণ্য যদি যোগ করা যায়, তাহলে তা জনগণের আরো উপকারে আসবে। যেমন কয়েকদিন চিনি বিক্রি করা হবে না। চিনি আমদানি করা হলে এ কর্মসূচিতে চিনিও যুক্ত হবে।

বস্তুত রাজধানীতে অনেক দরিদ্র ভাসমান মানুষ বসবাস করছে, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রামের ঠিকানায় করা। এজন্য তারা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ফের খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এভাবে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলা হয়েছে। তবে টিসিবির কার্যক্রমের পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সুষ্ঠু তদারকি বজায় রাখা প্রয়োজন। এছাড়া যেহেতু সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, সে হিসেবে ২০২১ সালের মতো অনলাইনে টিসিবির পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা রাখা উচিত। এটি তখন যেমন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, এ সময়েও তার পুনরাবৃত্তি হবে বলে আশা করা যায়। আমরা প্রত্যাশা করব, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় টিসিবির মতো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।