ড. এটিএম নুরুল আমিন, অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। ইমেরিটাস অধ্যাপক, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি), ব্যাংকক। কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করে প্রথমে রাজশাহী এবং পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদান করেন। এআইটি থেকে অবসর গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে ব্র্যাক, এনএসইউতে অধ্যাপনা করেন। দেশে চলমান বিক্ষোভ, সংঘাত-সহিংসতা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
জুলাইজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলন দুই শতাধিক প্রাণহানির দিকে গেল কেন? এত বড় আকারের প্রাণহানি এড়ানোর কি উপায় ছিল না?
অবশ্যই এড়ানো যেত। একটি অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও ন্যায্য সমস্যা সমাধানে কোনো জীবনহানিই মেনে নেয়া যায় না। এত জীবন যা ফিরিয়ে আনা যায় না। এ তরুণ-তরুণীদের দেখলেই একজন মানুষের স্নেহ-ভালোবাসা ও নিজের সন্তানসন্ততি ও ভাইবোনের চেহারা ভেসে ওঠার কথা। প্রশ্ন হলো, তাহলে কেন ঘটল এ জীবনাবসান? তার উত্তরও আমাদের জানা। এ রকম ঘটনা ঘটানোর জন্য দেশ ও মানুষকে ভাগ করে দেখাতে হয়। ভাগ করাও হয়। পাকিস্তানি সৈন্যদের ধারণা দেয়া হয় পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বাঙালি ও পাকিস্তানের শত্রু, বিশেষ করে হিন্দু বাঙালিরা, তখন ওই সৈন্যদের জন্মগতভাবে পাওয়া মানবিক গুণাবলি ঢাকা পড়ে যায়। তখন নির্বিচারে বাঙালি হনন করতে দ্বিধাটা থাকে না। একইভাবে বাঙালিরাও অবাঙালিদের হনন করতে দ্বিধা করেনি ওই কারণেই। এ ঐতিহাসিক সত্য স্মরণ করতে হলো কেননা নিজের ছেলেমেয়ে বা ভাইবোনের মতো নিষ্পাপ-তরুণ-সাহসী শিক্ষার্থীদের একটি ন্যায্য দাবি ও আন্দোলনকে এভাবে না দেখে সর্বোচ্চ মহল থেকে দেখানোর চেষ্টা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সন্তানদের বাদ দিয়ে রাজাকারদের ছেলেমেয়েদের জন্য সুবিধা দেয়ার দাবি হিসেবে। হঠাৎ করে একদিনে এ বিভক্তি সৃষ্টি করে মানুষকে মানুষ হিসেবে না দেখার প্রয়াস হয়নি। এ বিভক্তিকে বলবৎ রাখার জন্য যারা বছরের পর বছর কাজ করে গেছেন ও যাচ্ছেন তারা এর ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা করেন বলে মনে হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হলো সরকারপ্রধানের অসাবধানতাপ্রসূত বা ইতোমধ্যে উল্লিখিত বিভক্তি ধরে রাখার অবদানে করা উক্তি: ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না? তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে?’ অথচ আন্দোলনরত একটি তরুণ মেয়ের মুখে শুনলাম কত যুক্তিসংগত কথা: ‘আমরা তো সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কোটার বিরুদ্ধে নই’। একটি আবেগময়ী স্লোগানেরও সৃষ্টি হলো এর থেকে: ‘চাইতে আসলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার’।
বর্তমানে ছাত্র, বিক্ষোভকারী ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার, আটক করা হচ্ছে এবং তাদের কাউকে কাউকে নির্যাতন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজারেরও বেশি আটক বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। সরকারের কঠোর এ ক্র্যাকডাউন আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
‘ক্র্যাকডাউন’ কথাটিই নিজ দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য নয়। তার পরও যে এটা ঘটল ও ঘটে চলেছে, তার কারণ আমার প্রথম বক্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যা যুক্ত করা দরকার তা হলো দীর্ঘ সময় ধরে একই রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় থাকার ফলে জবাবদিহিতার ভয় বা ক্ষমতা পরিবর্তনে কী পরিণতি হতে পারে তা ক্র্যাকডাউন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা মানুষ বিবেচনা তো করেই না, বরং মনে করে কঠিনভাবে তা করলে পুরস্কৃত হওয়ার সম্ভাবনা। এ বিষয়ে অনেক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে গত ১৫ বছরে। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, গণমাধ্যম গত ১৫ বছরের তুলনায় এ আন্দোলন ও নির্যাতনের খবর সংগ্রহে, বিশ্লেষণে ও পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা ও অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। বণিক বার্তার মতো অর্থনৈতিক এবং আর্থিক বিষয়ে প্রাধান্য দেয়া দৈনিকেও তা লক্ষ করা গেছে। কোনো রকম কালক্ষেপণ না করে এ পথ থেকে সরকার ও ক্র্যাকডাউন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার এ পথ ও পন্থা থেকে সরে আসা জরুরি।
স্বাধীনতার পূর্বাপর অন্যান্য ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে এ আন্দোলনের কোনো গুণগত পার্থক্য আছে কি?
এ বিষয়ে বণিক বার্তায় বদরুদ্দীন উমর যা জানিয়েছেন তা তার মতো বিজ্ঞ ও সাহসী মানুষের পক্ষেই সম্ভব। ভাষা আন্দোলনের সময় আমি ছিলাম শিশু। তবে হাসান হাফিজুর রহমান ও বদরুদ্দীন উমরের মতো লেখকদের লেখা থেকে যা জেনেছি বা স্কুলজীবন থেকে প্রভাতফেরি করে যা উপলব্ধি করেছি তা হলো, ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ও স্বাধিকারের দিক এবং এ কারণেই এর সর্বজনীনতা যা আজও আমাদের এক করে। ষাটের দশকের প্রথম দিকের শিক্ষা আন্দোলন হয় ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময়। ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ (কল্পনাও করতে পারি না সেই ছাত্রলীগই আজকের ছাত্রলীগ!) ও ছাত্র শক্তি ছিল এ আন্দোলনের চালিকাশক্তি। কাজী জাফর ও সিরাজুল আলম খান যথাক্রমে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের পক্ষে বিশাল বিশাল মিছিলের অগ্রভাগে বেবিট্যাক্সিতে বসে আবেগময়ী বক্তৃতা দিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের উদ্বেলিত করতেন। এ বিষয় উল্লেখ করলাম এজন্য যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে দুটি বড় ধারা তা আজকের দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রতিনিধিত্ব করে। ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি আরো প্রত্যক্ষভাবে। এ আন্দোলনে যে সংগ্রাম কমিটি নেতৃত্ব দেয় তারাও মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বে চলে আসে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছাত্র ইউনিয়নের যারা সিপিবিতে যোগদান করেন।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন হয় মুসলিম লীগ সরকারের অধীনে, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন ও আটষট্টি-ঊনসত্তরের আন্দোলন সংঘটিত হয় আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময়ে, আর ঊননব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান হয় এরশাদের সামরিক শাসনের সময়ে। প্রথম তিনটি আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের আগে আর শেষেরটি স্বাধীনতা অর্জনের পর, তাও একটি সামরিক সরকারের সময়ে। এসব কোনো আন্দোলনের (পরাধীনতাকালীন তিনটিসহ) সময়ই চলমান কোটা আন্দোলনের সময়ের মতো জীবন ক্ষয় হয়নি। ন্যায্যতা, সর্বজনীনতা ও মূলত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়েও এটা হয়ে গেল। ১৫ বছর ধরে বিএনপির নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলগুলোর যে আন্দোলন ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় চলমান তাতেও হাজার হাজার শীর্ষনেতাসহ নেতাকর্মীর জেল-জুলুম ও হাজার হাজার মামলা, গুম চলমান থাকলেও গুলিতে মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র কয়েক দিনের কোটা আন্দোলনের মৃত্যুর চেয়ে কম হবে বলে ধারণা। এ এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতা!
বেসামরিক সরকার যে কারফিউ জারি করল এবং তা বেশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। এর মাধ্যমে সবকিছু স্বাভাবিক করা যাবে? এর প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে?
সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই ঠিক হয়ে যাবে একদিন। অবরুদ্ধ দেশের সময় পার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, কিন্তু ওই অভিজ্ঞতা শুধু আমরা যারা তার মধ্য দিয়ে গেছি তারাই মনে রাখছি না, আমাদের জাতিসত্তার সঙ্গে তা জাগ্রত রয়েছে ও থাকবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে। আজকের তরুণরা যা দেখল, জানল, যার মধ্য দিয়ে গেল, এখনো যাচ্ছে তা তাদের প্রজন্মের মধ্যে জাগ্রত থাকবে বছরের পর বছর। খারাপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক বিভক্তি আরো শক্তিশালী হওয়া। আর ভালো দিক হতে পারে ‘নেভার অ্যাগেইন’!
সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়কদের একটি অংশ বিবৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতাল থেকে তুলে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য?
এক কথায় অমানবিক। যে দেশের মানুষ ধর্মভীরু, বাবা-মা-ভাইবোনের মায়া-মমতার বন্ধনে বড় হয়, যে দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ-শামসুর রাহমান-আল মাহমুদের প্রভাবে, সে দেশের শাসন কর্মকর্তারাই হতে পারেন এ রকম নিষ্ঠুর!! আশা করব যারা এ নিষ্ঠুরতা প্রয়োগ করতে দ্বিধা না করে তরুণ-তরুণীর জীবন কেড়ে নিলেন তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাইবেন ও প্রতিটি আপনজন হারানো পরিবারের জন্য সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। আর নিজেদের সঙ্গে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন: ‘নেভার অ্যাগেইন’।
সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নেয়া হবে। ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে এক লাফে ৭ শতাংশে নিয়ে আসা হলো। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ছাত্রদের বড় একটি দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তাহলে আন্দোলন করছে কেন? সরকারের এ অবস্থানকে কীভাবে দেখছেন?
এক কথায় বলা যায় যারা আন্দোলন করে যাচ্ছে তারা মানুষ! কোমলমতি তরুণ শিক্ষার্থী। যা ঘটানো হয়েছে ও ঘটে গেছে তা তাদের পক্ষে এত সহজে ভুলে যাওয়ার কথাও নয়, সম্ভবও নয়। যারা এত সহজে ও অল্প সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নেয়া হবে বলে জানাতে পারলেন তারা কেন এ জীবননাশের দিকে গেলেন? দেশের জনগণকে বিভক্ত রাখতে?
ব্যাপক প্রাণহানি পুরো জাতীয় সংহতি ভেঙে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করল কি? গভীর এ জাতীয় সংকটের সমাধান আছে কি? যদি থাকে তা কোন পথে?
জীবন ফিরে আনা যাবে না। সম্পত্তির ক্ষতি পূরণ করা যাবে। নেভার অ্যাগেইনের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য জাতীয় সংকটের সমাধান জরুরি। তা কিন্তু কঠিনও নয় এবং সবার জন্যই মঙ্গলের। জাতীয় সংকটের সমাধান ও সবার মঙ্গলের জন্য জাতীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় শিক্ষা হতে পারে: একজন ব্যক্তির দীর্ঘ শাসন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ ধরনের শাসন কারো জন্যই মঙ্গল নিয়ে আসে না। এ সিদ্ধান্তে আমি গণচীন ও রাশিয়াকে রাখছি না তাদের রাজনৈতিক-সামাজিক ভিত্তি আমাদের থেকে ভিন্ন হওয়ার কারণে। ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যবস্থাকে নির্মাণ করার জন্য আমাদের দেশের একটি বড় অর্জন হয়েছিল একটি সামাজিক-রাজনৈতিক চুক্তি: যা হলো শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দল বা সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। এ চুক্তির আলোকেই ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ (শেষেরটিতে অগ্রহণযোগ্য সরকার আসা সত্ত্বেও) যে নির্বাচন হয়েছে তা সবাই গ্রহণ করেছিল। পক্ষান্তরে ওই ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ ক্ষমতায় থাকা শাসক ও দলের অধীনের এ তিন নির্বাচনেই স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি ও বেশির ভাগ নাগরিক ভোট দিতে যায়নি বা পারেনি। ফলে জাতীয় বিভক্তিতে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ হলো, যার পরিণতি হলো বিদেশী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নির্ভরশীলতা।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জানাচ্ছে। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোয় বিভিন্ন রাজনীতিক আলাদাভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘসহ অন্যান্য মহল কি বাংলাদেশ নিয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?
আমাদের নেতারা, বিশেষ করে যারা দেশ শাসন করছেন, তাদের উপলব্ধি ও শুভ উদ্যোগ ব্যতীত কোনো কিছুতে আমরা অগ্রসর হতে পারব না। রাজনৈতিক-সামাজিক চুক্তি অর্জনে ১৯৯১ সালে তো কোনো বিদেশীদের সাহায্য-সহযোগিতা দরকার হয়নি। আরো সুবিধার দিক হলো, বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলো কিন্তু এখনো অনেকটা একই রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, এ ধরনের চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রতিবেশী ও মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী রাষ্ট্র ভারতের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। ভারত যদি একটি রাজনৈতিক দল ও বিশেষ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ওপর সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রেখে চলে তাতে বাংলাদেশের এবং এ দেশের মানুষের ক্ষতি ঠিকই হবে কিন্তু তা ক্ষতি করবে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিচয় ও মর্যাদা। পশ্চিমা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দেশ ও জাতিসংঘসহ এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা অর্জনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে। গণচীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের মানুষ তাই এটাও আশা করে যে, এ দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন অপরিহার্য। তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ত্যাগ, সহসাথীদের জীবন হারানোর বেদনা এ দেশের প্রতিটি মানুষকে নাড়া দিয়েছে। ‘নেভার অ্যাগেইন’ মটো হোক আমাদের নতুন দিশারী আলোকবর্তিকা। আর একটি বিষয়, যেন আমরা ভুলে না যাই তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল ও দিয়ে চলেছে অনেক নগর দরিদ্র (যাদের অনেকেই কিশোর-কিশোরী), যারা বাস করে রাস্তায় বা বস্তিতে আর জীবিকা অর্জন করে অনানুষ্ঠানিক খাতের বিভিন্ন কাজ করে। বাংলাদেশের সব আন্দোলনেই এদের ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক বিনির্মাণে এখন পর্যন্ত এ জনগোষ্ঠী বিবেচনায় আসেনি। কোটা আন্দোলনের তরুণ-তরুণীদের মেধা ও সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে এ নগর দরিদ্রদের জন্য জীবনধারণের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়ার কাজও জাতীয়ভাবে করা জরুরি।










