অর্থনীতি, নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন চিন্তায় অনন্য অবদানের জন্য ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ও ড. মসিউর রহমানকে সংবর্ধিত করছে বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)। দুই দিকপাল অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারককে বর্তমান সময়ে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত খুবই প্রাসঙ্গিক। 

ড. মির্জ্জা আজিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা করেন। উইলিয়ামস কলেজে উচ্চতর শিক্ষা শেষে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। পাকিস্তান সরকার থেকে শুরু করে নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারে ১৮ বছর সরকারি আমলা হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮২ সালে তিনি জাতিসংঘে যোগদান করেন। জাতিসংঘের আওতাভুক্ত ইএসসিএপির (এসক্যাপ) উন্নয়ন গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক হিসেবে ২০০১ সালে অবসরে যান। ২০০২-০৫ মেয়াদে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭-০৮ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। 

তিন দশকের বেশি সময় ধরে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি একজন পরীক্ষিত অর্থনীতিবিদ। সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালা নিয়ে তার বোঝাপড়া অনন্য। অর্থ, মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হার নিয়ে তার বোঝাপড়া ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। বিএসইসি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকার সময় তার গৃহীত নীতিমালা ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা সবাই তার ব্যক্তিগত নিষ্ঠা এবং সততাকে সমীহ করে। গত ১৫ বছরে ড. ইসলাম সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা এবং বিপুল শ্রোতার সামনে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং পুঁজিবাজার নিয়ে তার বোঝাপড়া অতুলনীয়। 

ড. মসিউর রহমান ছিলেন তার সময়ের সবচেয়ে মেধাবি ছাত্রদের একজন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ঈর্ষণীয় ফলাফল নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরবর্তী সময়ে টাফট ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক পলিসি নিয়ে মাস্টার্স করেন। ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস অ্যান্ড ইকোনমি নিয়ে পিএইচডি অর্জন করেন হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল অব গভর্মেন্ট থেকে। 

ড. রহমান ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে তিনি দেশে চলে আসেন। দায়িত্ব গ্রহণ করেন ব্যক্তিগত সচিবের। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। 

প্রায় দুই দশক ধরে নানা ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. মসিউর রহমান। নিপুণ হাতে সামাল দিয়েছেন ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউর (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইন্টারনাল রিসোর্স ডিভিশনের সচিবের দায়িত্ব। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে। তিনি এনবিআরের চেয়ারম্যান থাকার সময়ই ভ্যাট চালু করা হয়। 

সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর ড. মসিউর রহমান যোগ দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা হন। তার পর থেকেই তিনি সরকারের অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দেশের সরকারি নীতি প্রণয়নের দিক থেকে ড. মসিউর রহমানের অভিজ্ঞতা ৪০ বছরের বেশি। অর্থনৈতিক নীতিমালা নিয়ে তার জ্ঞান এবং বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনীতি এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার দখল মৌলিক এবং প্রায়োগিক। যেকোনো শ্রেণীর শ্রোতার কাছে তিনি অর্থনীতি, সরকার এবং উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে পারেন। অর্থ, সুদহার, মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার এবং ব্যালান্স অব পেমেন্টের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তার বোঝাপড়া সত্যিই প্রশংসনীয়। 

মির্জ্জা আজিজ ও মসিউর রহমান দুজনই বাংলাদেশের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক। তাদেরকে সম্মাননা দেয়ার জন্য বণিক বার্তা এবং বিআইডিএসের সিদ্ধান্ত খুবই সময়োপযোগী। তাদের নিষ্ঠা ও সততা সর্বমহলে সুবিদিত। মানুষ তাদের মতামতকে শ্রদ্ধা করে। সর্বোচ্চটা দিয়ে দেশের সেবা করেছেন তারা। তাদের যাপিত জীবন ও কর্ম দেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ নির্দেশ করবে। এ সময়ে আমি তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। 

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান: ক‌মিশনার

বাংলা‌দেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্স‌চেঞ্জ ক‌মিশন (বিএসইসি)