বাংলাদেশের রাজনীতিতে "‘জিরো-সাম গেম’ (Zero-Sum Game) ধারণাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, যেখানে এক পক্ষের লাভ মানেই অন্য পক্ষের সমান বা সমূহ ক্ষতি। উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দের অভাবে ইংরেজি পরিভাষাটি এখানে ব্যবহৃত হবে। জিরো-সাম গেম হলো এক ধরনের গেম থিওরি বা খেলা, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের লাভ মানেই অন্য খেলোয়াড়ের ক্ষতি দ্বারা পূরণ হয়। অর্থাৎ গেমের ফলাফল অনুযায়ী মোট লাভ এবং মোট ক্ষতির যোগফল সবসময় শূন্য বা জিরো হয়। এ কারণেই একে জিরো-সাম গেম বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো খেলায় একজন খেলোয়াড় ১০ পয়েন্ট লাভ করে, তবে অন্য খেলোয়াড়কে ঠিক ১০ পয়েন্ট হারাতে হবে, ফলে মোট লাভ ও ক্ষতির যোগফল হবে শূন্য। এ রকম ফলাফল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রীড়ায় স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত, যেখানে নিজে বা নিজেদের টিম জিততে হলে প্রতিপক্ষকে হারাতেই হবে। সুতরাং বিপক্ষ বা প্রতিপক্ষকে হারানোর সেখানে অদম্য আকাঙ্ক্ষা, প্রয়াস ও কৌশল থাকতে হবে। কিন্তু জীবনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিসরে এ শূন্য যোগফলের খেলায় চূড়ান্ত বিচারে দেশ আর জনগণই হেরে যায়।
পাঠকরা হয়তো ভুলে যাননি ‘খেলা হবে’ ঘোষণার, যা জিরো-সাম খেলার ঘোষণা—রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। তাই ধারণাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শক্তির লড়াই ও তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে সহায়ক। বিশেষত একদিকে আওয়ামী লীগ এবং অন্যদিকে বিএনপি ও জামাত জোটের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা দ্বন্দ্ব, যেখানে এক পক্ষ ক্ষমতায় এলে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা, এমনকি নির্মূলের চেষ্টা করে, তার ফলে রাজনীতির পরিবেশ অসহনীয়ভাবে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান, দুর্নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রভাবও এই জিরো-সাম গেমের রাজনীতিকে ত্বরান্বিত, প্রকট ও জটিলতর করেছে।
১৯৭১ সালের মহান ত্যাগের ফসলে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে বাকশালী একদলীয় প্রবণতায় আওয়ামী লীগ জিরো-সাম খেলার দিকে দেশটিকে ঠেলে দেয় এবং নিয়মতান্ত্রিক বা শান্তিপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনের সব পথ রুদ্ধ করে দেয়। ফলে জনগণের চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এর পরিণতি ঘটে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার মধ্য দিয়ে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাংলাদেশে সামরিক শাসনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতায় জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় আসেন। তিনি তার শাসনের অধীনেই বাকশালী প্রবণতার বিপরীতে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্বাসন করেন, যদিও তার ক্ষমতাকে সুসংহত করতে তিনি নিজেই রাজনীতিতে আসেন এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি নামের নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করেন। তার শাসনেও প্রতিপক্ষ শক্তিকে কোণঠাসা করার মনোভাব থাকলেও প্রত্যক্ষ দমন নীতি সেইভাবে ছিল না, যেমনটি ছিল ১৯৭৫-এর আগে এবং ২০০৮ সালের পর। সে কারণেই তার আমলে জিরো সাম গেমের ব্যাপক প্রতিফলন হয়নি। পরবর্তীকালে এরশাদ সরকারের অধীনে স্বৈরাচার আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। কিন্তু সেখানেও প্রতিপক্ষদের নিশ্চিহ্ন করার মতো জিরো-সাম খেলা ছিল না। তবে ক্রমাগতভাবেই দেশটি পুরোপুরি জিরো-সাম রাজনীতির পথ ধরেই হাঁটছিল। এ খেলার স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল বা কব্জা করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করা। এতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আস্থা এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। স্বৈরাচারী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক সংলাপের সুযোগ প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়। সরকারবিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর বৃহত্তর কার্যকরী ঐক্যের ফলে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।
ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করে। ক্ষমতার পালাবদলের ধারাবাহিকতায় আবার যখন বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে, তখন থেকে জিরো-সাম খেলার ধারাবাহিকতা নতুন মাত্রায় শুরু হয় এবং ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় থাকার ধারাবাহিকতা দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করতে নানা চতুর কলাকৌশলের আশ্রয় নেয়, যার ফলে আওয়ামী লীগ ও তার জোট নতুন সহিংস মাত্রায় মাঠে নামে। পরবর্তী সময়ে মারাত্মক নৈরাজ্যকর অবস্থায় আবার সামরিক শাসন আসে। এটাও পরিষ্কার হয় যে মার্কিন-ভারতীয় দ্বিপক্ষীয় ভূরাজনৈতিক আঁতাত, ভারতীয় আধিপত্যবাদের আরো পরিপক্ব নকশা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসে এবং এরপর থেকে জিরো-সাম খেলার পূর্ণাঙ্গ ধারা বেপরোয়াভাবে শুরু হয়।
রাজনীতির মূল লক্ষ্য নিছক ক্ষমতা ধরে রাখা হলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে, সিস্টেমজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৮ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরাচার ও দুর্নীতির সর্বগ্রাসী সয়লাবের সূচনা হয়। এ দুষ্টচক্রের অংশ হিসেবে দুর্নীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল জিরো-সাম রাজনীতি, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতিয়ে নেয়া এবং সর্বগ্রাসী দলীয়করণের স্থায়ী ব্যবস্থার জন্য সুপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু হয়। দুর্নীতি আর স্বৈরাচারের অভূতপূর্ব সমন্বয়ে প্রভাবশালীরা রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহার করে নিজ নিজ পক্ষকে লাভবান করতে চেষ্টা করে। প্রতিপক্ষের ক্ষতি বা তাদের সুযোগ সীমিত করার জন্য সম্পদের অবৈধ বণ্টন, দুর্নীতিপরায়ণ চুক্তি এবং জনসেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতির প্রয়োগ করা হয়। ফলে দেশজুড়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধা কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়, যেখানে বিরোধী দলের সমর্থকরাসহ অন্যরা পুরোপুরিই বঞ্চিত হয়। চক্রটি রাজনীতির দিক থেকে অসমতল পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কৌশল হয়ে দাঁড়ায়।
দুর্নীতি একটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার পাশাপাশি রাজনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুর্নীতির ফলে ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। স্বৈরাচারী শক্তি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হয় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়া, যা দুর্নীতিকে একটি কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত করে। এটি রাজনীতিবিদদের বাইরেও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত হয়: আমলাতন্ত্র, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা, এমনকি মিডিয়াও। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থিক বা ব্যাংক খাত এ দুর্নীতির দুষ্টচক্রের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। দুর্নীতির ফলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হয় এবং দেশের সত্যিকার উন্নয়ন কার্যত উপেক্ষিত হয়। বরং ২০৪১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী শাসন থাকা উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য অপরিহার্য বলে প্রোপাগান্ডা চলতে থাকে এবং সে লক্ষ্য সামনে রেখেই গণতন্ত্র ও সাংবিধানিকতার খোলসে অগণতান্ত্রিকতা ও স্বৈরাচারের বোঝা জাতির কাঁধে জেঁকে বসে। ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার পুত্র এবং সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভবিষ্যৎবাণী করেন যে, আগামী ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত বলে কোনো দল টিকে থাকবে না। এটা পূর্ণ মাত্রায় আওয়ামী লীগের জিরো-সাম খেলার উন্মুক্ত ঘোষণা ছিল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা মূলত আধিপত্যবাদী। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ধারণা এবং প্রবণতাও জিরো-সাম খেলার কাঠামোর সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর জিরো-সাম গেমের ছায়া পড়েছে, যেখানে ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাছে নতজানু অবস্থানের মূল দায়দায়িত্ব বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদেরই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হলেও পরবর্তীকালে এ সম্পর্ক একটি জটিল এবং একপক্ষীয় ভারতীয় আধিপত্যবাদের আকার ধারণ করে। ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি এবং নদীর পানিবণ্টন নিয়ে মতবিরোধ, বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতীয় আধিপত্যবাদের ধারণাকে আরো শক্ত করেছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অনেক সময় বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিছু রাজনৈতিক দল ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ক্ষমতায় আসা ও থাকার চেষ্টা করে; অন্যদিকে বিরোধী দল এ সম্পর্ককে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এতে করে একটি প্রবল দ্বান্দ্বিক ভারতের আধিপত্যকে মেনে নেয়া একটি পক্ষের জন্য লাভজনক হলেও অন্য পক্ষের চোখে তা ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরো তীব্র করে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ত্বরান্বিত করে।
সীমান্ত পরিস্থিতি, অভিবাসন, পানিবণ্টন বৈষম্য, বিশেষ ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্যায্য মুনাফার সুবিধা দেয়া, প্রতিবেশীর একচেটিয়া স্বার্থে আন্তঃসীমান্ত করিডোর দেয়া—এ সবই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটারই প্রতিফলন বিগত কয়েকটি নির্বাচনের নামে প্রহসনে ভারতের আধিপত্যবাদী নগ্ন হস্তক্ষেপ ও কলকাঠি নাড়াতে।
এ বছরের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে স্বাধীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের জন্য জিরো-সাম প্রবণতা থেকে উত্তরণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এর বিপরীতে "পজিটিভ-সাম গেম" ধারণাটি একটি সমঝোতা ও সহযোগিতার মডেল, যেখানে সব পক্ষই লাভবান হতে পারে। এই মডেল প্রয়োগ করে রাজনীতিতে স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি কার্যকরীভাবে আনা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ নির্বাচনী সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এমনভাবে গড়ে তোলা যেতে পারে যাতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে ওঠে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়। একইভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এবং রাষ্ট্রের সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম থেকে পজিটিভ-সাম গেমে রূপান্তর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত এবং স্বাধীন অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করা যেতে পারে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোকে নতুন করে মূল্যায়ন করা উচিত, যাতে উভয় দেশই লাভবান হয় এবং বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারে। নতুন বাংলাদেশে পজিটিভ-সাম গেমে উত্তরণের মানে এই নয় যে এখন থেকেই আগাম নির্ধারণ করা যে কীভাবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্বাসিত হবে। তাদের স্বৈরাচার, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি এবং আধিপত্যবাদের কাছে দেশকে বিকিয়ে দেয়ার মতো ন্যক্কারজনক অপরাধের যথাযথ বিচার হওয়ার পরই সে কথা উঠতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জিরো-সাম গেমের মতো অসহিষ্ণু দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা দেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে একটি পজিটিভ-সাম দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলে রাষ্ট্রের প্রাসঙ্গিক সংস্কার সম্পন্ন করতে পারলে এবং সহযোগিতামূলক ও সুস্থ প্রতিযোগিতাভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করা হলে দেশটি আরো স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। জাতির অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের জন্যই আমাদের অনুধাবন করা প্রয়োজন জিরো-সাম খেলা ও মানসিকতা এবং তা থেকে বের হয়ে পজিটিভ-সাম খেলা শেখা এবং তাতে মেতে ওঠা।
ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
অর্থনীতি বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা










