ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত হতাশার বিপরীতে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বয়স্ক জনসংখ্যা, প্রযুক্তিগত স্থবিরতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকার মতো দুর্বলতা থাকলেও ইউরোপের রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম একক বাজার, শক্তিশালী সঞ্চয় ভিত্তি, সামাজিক সুরক্ষা ও আইনের শাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ইউরোপীয়দের প্রায় ৩৫ ট্রিলিয়ন ইউরো ব্যক্তিগত সঞ্চয় এবং বীমা খাতের ১০ ট্রিলিয়ন ইউরোর সম্পদ শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সবুজ ও ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ইউনিয়ন সম্পন্ন করার পাশাপাশি শ্রমবাজারের অনমনীয়তা দূর করতে হবে। কর্মসংস্থান রক্ষার নামে উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত না করে কর্মীদের পুনর্দক্ষতা অর্জন ও পেশা পরিবর্তনে সহায়তা দিতে হবে। অবসর গ্রহণের বয়স বৃদ্ধি, আজীবন শিক্ষা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ব্যবস্থাও কল্যাণরাষ্ট্রের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ইউরোপকে কৌশলগত স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। প্রয়োজনে সব দেশকে সঙ্গে না নিয়েও আগ্রহী দেশগুলোর জোটের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে। লেখকের মতে, অতীতের অর্জন আঁকড়ে থাকা নয়, বরং সাহসী সংস্কার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সম্মিলিত উদ্যোগই ইউরোপের সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
টমাস বুবেরেল: ফরাসি বহুজাতিক বীমা ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)










