মানবসৃষ্ট পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পানি একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পানি প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজতে পানি অর্থনীতি (water economics) নামে অর্থশাস্ত্রের নতুন একটি বিশেষায়িত শাখার সৃষ্টি হয়েছে। কেননা বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় উৎপাদনশীল সব খাতেই পানি একটি অত্যাবশ্যক উপকরণ। বাংলাদেশ একটি নদীবহুল ও জলাভূমিবহুল দেশ হওয়ায় পানি অর্থনীতি সবিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের জন্য খাদ্য সংস্থান সরকারি সংস্থাগুলোর মনিটরিংয়ের অভাবে তথা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবে কৃষকরা প্রায়ই অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন। একইভাবে শিল্প-কারখানার মালিকরা সংস্কারবিহীন আইন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মনিটরিংয়ের অভাবে নির্বিচারে নদী ও জলাশয়ে শিল্প-কারখানার বর্জ্য নির্গত করছে। এতে করে স্বাদুপানির বড় উৎস নদী ও জলাশয়গুলোর পানি দূষিত হচ্ছে।

স্মর্তব্য যে শহরের প্রতিদিনের ব্যবহৃত পানি, চাষাবাদ ও শিল্প-কারখানার উৎপাদনের পানি জলাভূমি ও নদী থেকেই নেয়া হয়। মানুষ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জলাশয় ও নদীর পানি দূষিত করছে। পানিদূষণের মাধ্যমে পানির নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

পানিদূষণের মাধ্যমে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়ায়। দূষিত পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ, রাসায়নিক পদার্থ, ভারী ধাতু (আর্সেনিক, লেড, মার্কারি ইত্যাদি) থাকে। এ কারণে দূষিত পানি ব্যবহারে ক্যান্সারসহ মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হতে পারে। দুর্বল গোষ্ঠী বিশেষ করে গর্ভবতী মা, নতুন জন্ম নেয়া শিশু, পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এতে দরিদ্র ও প্রান্তীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা খরচ বেড়ে যায়, তাদের কাজের সময় কমে যায় এবং দরিদ্রতা বাড়তে থাকবে।

চাষাবাদের সময় অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, শিল্প-কারখানার বর্জ্য প্রতিনিয়ত পানির সঙ্গে মিশে মাটি ও পানি দূষিত করছে। এতে মাটির উর্বরতা কমছে, দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক উন্নতিতে প্রভাব ফেলে। লিঙ্গসমতা করতে হলে প্রথমে নারীদের মতপ্রকাশের অধিকার, স্বাস্থ্য, যৌন ও প্রজননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কীটনাশক মিশ্রিত দূষিত পানি নারীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও হরমনের সংবেদনশীল টিস্যুর ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। নারীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদার করা সম্ভব নয়। পানি ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে পারলে শিশুদের আরো উন্নত শিক্ষা প্রদান সম্ভব। দূষিত পানি পান করলে শিশুরা ট্রাইকুরাসিসের মতো মারাত্মক ব্যাধি ও স্বাস্থ্যহানি ঘটবে, এতে শিক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হবে। পানিদূষণের কারণে শহরের ক্লাস্টারগুলোর লোকজনের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রদান ব্যাহত হয়। শিল্প এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত কার্বন নির্গত হওয়ায় কারখানায় কাজ করা লোকজন ও শিল্প এলাকাগুলোয় বা আশপাশে বসবাসরত লোকজনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি থাকে। অতিরিক্ত কার্বন নির্গত হওয়ার কারণে পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে উপকূলীয় প্রান্তীয় জনগোষ্ঠী মাঝি, জেলে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দূষণ অধঃক্ষেপণ বেড়ে যায়, বৃষ্টির সঙ্গে কীটনাশক ছড়িয়ে পড়ে, অতিরিক্ত ঝড় ও বৃষ্টির মাধ্যমে দূষিত পদার্থ ছড়িয়ে পানিদূষণ বাড়িয়ে দেয়। বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনে পানিদূষণ বিস্তার লাভ করবে।

পানিদূষণের ফলে পানিতে বসবাসকারী প্রজাতিগুলোর জীবন হুমকির মুখে। প্রবাহের মাধ্যমে দূষণ ছড়িয়ে যাচ্ছে জলাশয় থেকে খাল-বিল, নদী, সমুদ্রে। সেখানে থাকা প্রাণীদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পানিদূষণ রোধ না করলে পানিতে থাকা প্রজাতি হারিয়ে যাবে। এছাড়া বর্ষার পানিতে দূষিত পানি মিশে চারদিকে ছড়িয়ে ভূমিকেও দূষিত করে। এতে ফসল উৎপাদনের জমি অনুর্বর হয়, মানুষের মাঝে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে যায়, ভূমিতে থাকা গাছ-পালা, পশু-পাখি মারা যায়।

পানিদূষণ শুধু মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য নয়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক অগ্রগতির হুমকিস্বরূপ। পানিদূষণ রোধ করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। পানিদূষণ রোধে প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে দূষণের উৎস ও কারণ। জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার রোধ করতে হবে, বিষাক্ত ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে, শিল্প-কারখানার বর্জ্যের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রত্যেক কারখানায় ট্রিটমন্টে প্লান্ট থাকতে হবে। নিরাপদ স্যানিটেশন ও পরিকল্পিতভাবে নগর পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেও পানিদূষণ রোধ সম্ভব। পানিদূষণ মোকাবেলায় সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতি, বিভিন্ন ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান, সরকারকে এগিয়ে এসে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

পানিদূষণ, পরিশোধন ও উপাদানগুলোর গ্রহণযোগ্য মাত্রা: পৃথিবীর পৃষ্ঠে উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ও তাদের প্রজাতি কালের বিবর্তনে পরিবর্তিত হয়ে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে রয়েছে। প্রাণবৈচিত্র্য প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু মানবসৃষ্ট দূষণের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ও প্রাণের বৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের অবক্ষয় রোধে টেকসই উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। পৃথিবীর প্রাণবৈচিত্র্য টিকে থাকার জন্য পানির ওপর নির্ভরশীল। পানির সঙ্গে পলিথিন, প্লাস্টিক, শিল্প-কারখানার বর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্য, ভিন্ন ধরনের সলিড বর্জ্য, প্রাণিজ বর্জ্য, কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত কীটনাশক ও বিভিন্ন ধরনের সার মিশে পানিকে প্রতিনিয়ত দূষিত করছে। এতে করে পানি পান ও ব্যবহারের অযোগ্য হচ্ছে, প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। পানিদূষণের কারণে শহরের নদীগুলো জীব মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

নানা কারণে পানি যেভাবে দূষিত হচ্ছে সে দূষিত অবস্থা থেকে পানিকে বিশুদ্ধ অবস্থায় পরিণত করতে পারলেও অনেকগুলো বিবেচনার বিষয় ও প্রশ্ন থেকে যায়। যে পরিমাণ পানি দূষিত করছি সে পরিমাণ পানি কি আমরা বিশুদ্ধ করতে পারছি? পানি বিশুদ্ধ করতে পারলেও বিশুদ্ধ করতে যে ব্যয় হচ্ছে সে ব্যয় কি সবাই বহন করতে পারবে? ভবিষ্যতে কত দামে আমাদের পানি কিনতে হবে?

পানিকে দূষণমুক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলেও একটা ত্রুটি থেকেই যাচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও পানিকে ট্রিটমেন্ট না করা, ট্রিটমেন্ট-সংক্রান্ত কাজে যারা জড়িত তাদের বড় একটি অংশের অদক্ষতা এবং পানির উপাদান ও উপাদানগুলোর সঠিক মান সম্পর্কে ধারণা না থাকা। মানুষের গৃহস্থালির বর্জ্য, শিল্প-কারখানার বর্জ্য, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, সলিড পদার্থ, কীটনাশক, সার পানিতে মিশে জলাশয়, নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ের পানিকে দূষিত করছে। আবার মানুষ সে জলাশয়, নদীর পানিকে বিভিন্নভাবে পরিশোধন করে ব্যবহার করছে। জলাশয়, নদীর পানিকে বিভিন্ন ধাপে পরিশোধন ও ব্যবহার উপযোগী করা হয়।

প্রথমত, পানিতে থাকা বড় কণা ও পদার্থ যেমন প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, কাগজ ইত্যাদি অপসারণ করা হয়। দ্বিতীয়ত, পানিকে কোয়াগুলেশন বা ফ্লোকুলেশন বেসিনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় যেখানে বিভিন্ন ধরনের কোয়াগুলেন্টস বা জমাট বাঁধা পদার্থ যেমন অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিডেডমাক যুক্ত থাকে। কোয়াগুলেশন বা ফ্লোকুলেশন বেসিনে পানি থেকে বিভিন্ন কণা, ময়লা, রঙ অপসারণ করে পানিকে স্পষ্ট ও বর্ণহীন করে শোধন করা হয়। তৃতীয়ত, পানিকে বর্ণহীন করার পর সেডিমেন্টেশন বেসিনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় যেখানে পানিতে থাকা অধঃক্ষেপ অপসারণ করা হয়। চতুর্থত, পানি থেকে অধঃক্ষেপ অপসারণের পর পানিকে ফিল্টারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় যেখানে পানিতে থাকা অবশিষ্ট কণা, অধঃক্ষেপ অপসারণ করা হয়। পঞ্চমত, ফিল্ট্রেশনের পর পানিকে ডিসইনফেকটেন্ট বেসিনে প্রবাহিত করা হয় ডিসইনফেকশন বা জীবাণুনাশক করার জন্য। পানিতে বিভিন্ন জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ, ক্লোরিন যুক্ত করা হয়, যাতে পানিতে থাকা সম্ভাব্য প্যাথোজেন বা অণুজীব যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া (ইসছেরিছিয়া কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার, শিগেলা ইত্যাদি) অপসারণ করে পানিকে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

পানিকে শুধু ট্রিটমেন্ট বা পরিশোধন করলেই ব্যবহার উপযোগী হয় না, পানির প্যারামিটারগুলোর মাত্রা ঠিক রাখতে হয়। বিশ্বে এবং বাংলাদেশে পানির উপাদানগুলোর একটি স্ট্যান্ডার্ড মান বজায় রেখে পানিকে পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। বর্জ্য পানির ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পানির প্যারামিটারের যে মান নির্দিষ্ট করেছে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর অনেক ক্ষেত্রে তার সঙ্গে মিল রেখে পানির কিছু উপাদানের জন্য স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ধারণ করেছে।

কোনো প্রাকৃতিক জলাধারে বর্জ্য পানি ট্রিটমেন্ট করে ছাড়তে হলে পানির প্যারামিটারগুলো যে স্ট্যান্ডার্ড মান রাখতে হয় তা পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি, ১৯৯৭-এ বলা হয়েছে।

দেশের অধিকাংশ নদী ও জলাশয়ে বিভিন্ন বর্জ্যের ভারী ধাতু এসে পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করছে, যেগুলোর প্রভাব জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশে সরাসরি দেখা যায়। পানিতে উপস্থিত জীবের মধ্যেও ভারী ধাতুগুলোর উপস্থিতি লক্ষণীয়। মানবদেহে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বিভিন্ন অঙ্গ যেমন স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।

বর্জ্য পানি বা দূষিত পানিকে যখন ট্রিটমেন্ট করা হবে তখন উল্লিখিত প্যারামিটারগুলো ভালোভাবে চেক করা প্রয়োজন। এছাড়া আনুষঙ্গিক আরো প্যারামিটার চেক করা প্রয়োজন, তবে এগুলো চেক করলে অন্যগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। আন্তর্জাতিকভাবে যারা বাংলাদেশের পোশাক ক্রেতা রয়েছেন, তারা নিজস্ব কিছু এনভায়রনমেন্টাল পলিসি অনুসরণ করেন। জিরো ডিসচার্জ হেজার্টাস ক্যামিকেল (জেডডিএইচসি) ম্যানুফ্যাকচারিং রেসট্রিকটেড সাক্সটেন্স লিস্ট অনুযায়ী যেসব প্যারামিটার রয়েছে সেগুলোর প্রত্যেকটি প্যারামিটারকে আরো সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এখনো অনেক প্যারামিটারের মাত্রা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেমন ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্টের পর TSS-এর মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে রাখা হয়েছে mg/lt, সেখানে বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড মাত্রা mg/lt ।

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এনভায়রনমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে। প্রত্যেকটা শিল্প-কারখানায় ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে দূষিত পানি ট্রিটমেন্টের পর পানির প্যারামিটারগুলোর আরো স্ট্যান্ডার্ড মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে, ওয়েস্ট ওয়াটার জলাভূমিতে ছাড়ার পূর্বে ভালোভাবে ট্রিটমেন্ট করে প্যারামিটারগুলোর মাত্রা ভালোভাবে চেক করে ছাড়তে হবে, নির্দিষ্ট সময় পর পর কর্তৃপক্ষকে সরেজমিন তদারক করতে হবে। পানিদূষণ রোধ করতে পারলেই নদী, জলাভূমি ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে সেডিমেন্ট টেস্ট করাও প্রয়োজন। ওয়েস্ট ওয়াটার ছাড়া হলে নদী, জলাভূমির পানির সঙ্গে মিশে পানিকে দূষিত করছে, ঠিক তেমনিভাবে বর্জ্যে থাকা নিউট্রিয়েন্টস (যেমন নাইট্রোজেন, সালফার, ফসফরাস ইত্যাদি), পলুউট্যান্টস, ভারী ধাতু সেডিমেন্টসে মিশে যায়। দূষণ রোধে আমাদের দেশে সেডিমেন্ট টেস্ট কম করা হলেও উন্নত দেশগুলোয় করা হয়।

মোহাম্মদ এজাজ: চেয়ারম্যান, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি)