মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য লিখিত কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা বইয়ের প্রধান লেখক তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। কমনওয়েলথ রিসার্চ ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার মান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম, শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করণীয় এসব প্রসঙ্গে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবরিনা স্বর্ণা
সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থা—সার্বিক পরিবেশ এক ধরনের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
পুরো দেশ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী যখন দেশ ছেড়ে গেলেন দেশকে অরক্ষিত রেখে। সে সময়ও আমরা নানা অপ্রীতিকর ঘটনা দেখেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তাল পরিস্থিতি দেখেছি। সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হলো পুলিশের নৈতিক অবক্ষয় আমাদের দেখতে হয়েছে। যদিও তারাও এর পরিপ্রেক্ষিতে হামলার শিকার হয়েছে; থানা ভাংচুর করা হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্য মারাও গেছেন। পুরো পুলিশ বাহিনী এখন এক ধরনের বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যদি সুষ্ঠু অবস্থায় আনতে চাই তাহলে সবার আগে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনীকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিতে হবে। পুলিশ হওয়ার কথা ছিল আমাদের বন্ধু কিন্তু হয়ে গেছে আমাদের শত্রু। পুলিশদের প্রতি জনরোষ ও জনক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অতিমাত্রায় রাজনৈতিকীকরণের কারণে এমন বিরূপ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এ বিশাল পুলিশ বাহিনীর সবাই তো দোষী না। তাই দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যত দেরি হবে, পুলিশের ব্যবস্থাপনা তত ভেঙে পড়বে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পর হাত দিতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায়।
আপনার ইনস্টিটিউটে এখনো কিছু শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে।
হ্যাঁ। এর মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ অনেক শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে আছে। এ অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে কিছুই করা যাবে না। কেননা এর সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। তাই সুচিন্তিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ঠিক করতে জরুরি ভিত্তিতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শিক্ষা কমিশন গড়তে হবে। এ কমিশনে থাকবেন শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞসহ অন্য অংশীদাররাও যারা খতিয়ে দেখবেন কখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা যেতে পারে, কখন পরীক্ষা নেয়া যাবে, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরা যেভাবে হলে নির্যাতিত হয়েছেন সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য তারা অভ্যুত্থান করেছেন? মোটেও না। এ আন্দোলন ছিল শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। পরে বাকিরা যুক্ত হয়েছেন। সুতরাং শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া কী সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। বিক্ষিপ্তভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তার সুফল আসবে না। তাই কমিশনটি করতে হবে এবং এটার কর্তৃত্ব থাকবে বিভিন্ন সুপারিশ প্রদানের। কমিশন ছোট ছোট কমিটি তৈরি করে যে সুপারিশ দেবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ঠগ বাছতে গা উজাড় করা যাবে না। যারা দলীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত, তাদের অনেকে এরই মধ্যে স্বেচ্ছায় বা চাপের মুখে পদত্যাগ করছেন। এর মানে হলো আমরা যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে পারিনি। কিন্তু দলীয়ভাবে নিয়োগকারীদের ভিড়ে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকও রয়েছেন। সবাই স্বৈরাচারের দোসর নন। এদের মধ্যে নিশ্চয় ব্যতিক্রম রয়েছেন। তাই ঢালাওভাবে কোনো কাজ করা যাবে না। এজন্য বলছি একটি কমিশন গঠনের কথা। এ কমিশন তাৎক্ষণিক কিছু সিদ্ধান্ত নেবে এবং মধ্যমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা নেবে ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ করবে।
সেগুলো কেমন হতে পারে?
আমি বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো পড়িয়েছি কখনো-বা পড়েছি। সে সময় শিক্ষার্থীদের ডর্মে থেকেছি। সেগুলো কমপক্ষে তিন তারকা মানসম্পন্ন। আর এখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবন যাপন করেন। আমরা এমনটা চাই না। কিন্তু এটি একদিনে সমাধান করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অধ্যাপকরা পদত্যাগ করেছেন সেই শূন্যস্থানগুলো পূরণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ভিসি হওয়ার পর কি অধিকাংশই গাভী বিত্তান্ত উপন্যাসের ভিসি চরিত্র—মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ হয়ে যায় নাকি তারা আগে থেকেই তেমন হন বলে নিয়োগ পান?
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ক্ষেত্রে কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যবস্থাপনা দক্ষতাকেই দেখা হয় না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আমরা সবাই তার দিকে আশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকি। দেশবাসী পর্যন্ত একজন উপাচার্যের কথাকে গুরুত্ব দেন। তাকে হতে হবে একজন বুদ্ধিজীবী ও জাতির অভিভাবক, যিনি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। কিন্তু আমরা কী দেখেছি? এবারের আন্দোলন ঘিরে গুম-হত্যা-লুণ্ঠন যা যা হয়েছে সেসব প্রসঙ্গে চুপ তো ছিলেনই, কেউ কেউ আবার সেগুলোকে জাস্টিফাই করেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শত শত শিক্ষার্থী মারা গেলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থী আহত হলেন অথচ তারা মুখে কুলুপ এঁটে রাখলেন। একটা কথাও বললেন না। তারা যদি সে সময় সোচ্চার হতেন তাহলে এত বড় ম্যাসাকার হতো না। এজন্য বলা হয়ে থাকে, ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য’। তাই উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিকতা বিবেচনায় রাখা জরুরি। অর্থাৎ তার মেরুদণ্ড সোজা কিনা। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝে গেছেন। তাই এখন থেকে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো একাডেমিশিয়ান, দক্ষ ব্যবস্থাপক হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ নৈতিক মানসম্পন্ন হতে হবে, যিনি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না এবং সাদাকে সাদা আর কালোকে বলতে পারবেন। দলীয় লেজুড়বৃত্তিক হিসেবে চিহ্নিতদের নিয়োগ দেয়া যাবে না। শিক্ষক ও জাতির কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে এমন ব্যক্তিকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দিতে হবে।
কিন্তু নিয়োগের পরও তো অনেকে দলীয়করণের মধ্যে পড়ে যান?
এজন্য মেরুদণ্ডসম্পন্ন লোক নিয়োগ দিতে হবে যিনি সরকারের তাঁবেদারি করবেন না। যদি রাজনৈতিক চাপ দিতে যায় তাহলে তিনি পদত্যাগ করবেন। এরপর আরেকজন নিয়োগ দেয়া হবে। তাকেও যদি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। এভাবে সবাই যদি পদত্যাগ করতে থাকে তাহলে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কতজনকে পদত্যাগ করাবেন? সুতরাং মেরুদণ্ডসম্পন্ন ব্যক্তি নিয়োগের সংস্কৃতি চালু করতে হবে যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চালাবেন, এটিকে দলীয় রাজনীতির টর্চার সেল বানাবেন না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছোট ছোট আয়নাঘর চাই না, দরকার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শিক্ষা কমিশন। আর বাস্তবে নৈতিকতা ও মেরুদণ্ডসম্পন্ন অনেক শিক্ষক আছেন কিন্তু আমরা তাদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ দিই না। আমরা নিয়োগের জন্য বাছাই করি দলের অনুগত কাউকে।
সেক্ষেত্রে তো নিয়োগ পদ্ধতিরও সংস্কার প্রয়োজন?
এজন্য শুরুতেই আমি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শিক্ষা কমিশনের কথা বলেছি, এ কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো শিক্ষকদের নিয়োগ দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আমাদের দেশে যত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এ থেকে বের হতে হবে শিক্ষকদের। শিক্ষককে প্রকৃত অর্থে শিক্ষক হতে হবে।
শিক্ষাক্রম বা পাঠ্যসূচি নিয়েও নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করা হচ্ছে এবং বিতর্কও রয়েছে। এক্ষেত্রেও কি সংস্কার প্রয়োজন?
আমি সবসময়ই বলেছি, নতুন যে শিক্ষাক্রম চালু হতে যাচ্ছে সেটার ভার শিক্ষার্থীরা নিতে পারবে কিনা, অভিভাবকরা প্রস্তুত কিনা, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষকদের সেই সক্ষমতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা আছে কিনা এসব যাচাই করার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। পুরো শিক্ষাক্রম গবেষণাবিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত হয়েছে। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা কী শিখছি তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কীভাবে শিখছি। শিক্ষাক্রম এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকলে তা মরা নদীর মতো হয়ে যায়। সবসময়ই শিক্ষাক্রম চলমান সময়কে কেন্দ্র করে পরিবর্তন হবে। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু শিক্ষাক্রমের মধ্যে তো মূল্যায়ন পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত থাকে। শিক্ষাক্রম প্রণয়নের এক বছর পর বলা হলো এখন আমরা মূল্যায়ন পদ্ধতি ঠিক করব। এর মানে তো শিক্ষাক্রমই তৈরি হয়নি। কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হলো। আর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার ঘটে গেল তখন, যখন কেন্দ্রীয়ভাবে সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ষাণ্মাষিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হলো। কারণ স্থানভেদে বিদ্যালয়গুলোর বৈশিষ্ট্য তো আলাদা। সমতল ভূমির বিদ্যালয় আর পাহাড়ি এলাকার বিদ্যালয় এক রকম নয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বরং প্রশ্ন করার দায়িত্ব দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটি করা হলো না। পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থা আরো বাজে হয়ে গেল—প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেল। এ বিষয়ে এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বললেন যে প্রশ্ন ফাঁস হলেও অসুবিধা নেই, প্রশ্ন তেমনভাবেই করা হয়েছে। কী অদ্ভুত কথা! তাহলে তো পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন দিয়ে দেয়া দরকার ছিল।
এ উদ্ভট অবস্থা থেকে দ্রুত বের হওয়া জরুরি। যদি বছরের শুরুতে এটি হতো তাহলে অন্তত এ ব্যবস্থা স্থগিত করা যেত। কিন্তু অর্ধবছর পেরিয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন হলো যাচাই-বাছাই করে মৌলিক বিষয়—গণিত, ইংরেজি, ভাষাশিক্ষা এসব ঠিক রেখে কীভাবে পরীক্ষা নেয়া যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটিও কে করবে? ওই কমিশনের কাজ হবে এটা।
বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আপনার মতামত?
রাষ্ট্র মেরামতের কথা যেহেতু বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) একদম আপাদমস্তক সংস্কার হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আমার মতে, ভাইভায় নম্বর থাকা উচিতই নয়। ভাইভা যেন একদম অবজেক্টিভ বেজড হয় যেভাবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে থাকি। এছাড়া পিএসসির পুরো সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে। কেবল লোক বদল করলে হবে না। বিসিএসের নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না। অন্য দেশের সব প্রতিষ্ঠান অনেক শক্তিশালী হয়। তবে নীতিমালা পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। এখন করণীয় হলো, যেসব নিয়োগ হওয়ার কথা সেখানে যেন এক বিন্দু অস্বচ্ছতা না থাকে তা নিশ্চিত করা। সৎ এবং যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। পরে সময় নিয়ে কীভাবে যোগ্য মেধাবী ব্যক্তি নিয়োগ পাবেন তেমন নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষেত্রে কতটা সংস্কার করতে পারবে বলে আপনি আশাবাদী?
এ সরকার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক ধরনের ম্যান্ডেট পেয়েছে। তাদের প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেরও সাপোর্ট আছে। এ অবস্থায় নতুন সরকারের উচিত দ্রুততার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলা যে—আমরা এ কাজগুলো করতে চাই, আমাদের এত দিন সময় লাগবে। কেননা তারা কত দিন থাকবে, সেই সময়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
তাদের করণীয় কী হতে পারে?
এ সরকার গঠন হয়েছে দুটি দাবি থেকে। এক. রাষ্ট্র মেরামত ও দুই. গণতন্ত্র। সুতরাং গণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজটি করতে হবে। স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এ সরকার যদি মনে করে তারা দীর্ঘ সময় থাকবে তবে তা ভুল সিদ্ধান্ত হবে। দিনশেষে রাজনীতি রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই করতে হবে। একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করা উচিত। সবার আগে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করা লাগবে। যোগ্য ব্যক্তির নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। স্বল্পমেয়াদি মেরামতের কাজগুলো করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য এমন কিছু নীতিমালা বা ব্যবস্থা তাদের নেয়া দরকার যাতে আর কোনো স্বৈরাচার কখনো দাঁড়াতে না পারে। দ্বিতীয় করণীয় হলো, একটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে সসম্মানে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। আর দায়িত্বপ্রাপ্তরা যেন স্বৈরাচার হতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে, প্রয়োজনে আইনে পরিবর্তন আনতে হবে। গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। এর একটাই বিকল্প—আরো বেশি মাত্রায় গণতন্ত্র।










