মধ্যযুগের ইউরোপ। হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ল অজানা এক রোগ। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে প্রাণ হারাল প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। ইতিহাস একে চেনে ব্ল্যাক ডেথ নামে। তবে এই ভয়াবহ রোগ থেমে থাকেনি শুধু এক মহামারীতেই। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি থেকে গিয়েছিল মানুষের দেহে, ছড়িয়ে পড়েছিল নীরবে।
সম্প্রতি গবেষকেরা খুঁজে পেয়েছেন, কীভাবে এই ভয়াবহ প্লেগ এত দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকতে পেরেছিল। তাদের মতে, প্লেগ সৃষ্টিকারী ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ নামের ব্যাকটেরিয়াটি তাদের একটি নির্দিষ্ট জিনে সামান্য পরিবর্তন এনেছিল। সে পরিবর্তনেই রোগটি হয়ে ওঠে তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী। কিন্তু অনেক বেশি ছোঁয়াচে।
অর্থাৎ এটি আর হঠাৎ করেই বহু মানুষকে মেরে ফেলত না। বরং তার হোস্ট—যে দেহে এটি বাস করত—তাকে কিছুদিন বাঁচিয়ে রেখে একের পর এক নতুন মানুষকে সংক্রমিত করত। ফলে এই রোগ নিঃশব্দে ঘুরে বেড়াত শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
গবেষকেরা বলছেন, এই দুর্বল ধরনের প্লেগ পরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও আজকের প্লেগ আবার বেশ প্রাণঘাতী। এখনো আফ্রিকার কিছু গ্রাম, এশিয়ার দুর্গম অঞ্চল কিংবা আমেরিকার কোনো পাহাড়ি অঞ্চলে এ রোগের হদিস মেলে। তবে পার্থক্য একটাই—এখন আছে অ্যান্টিবায়োটিক, আছে চিকিৎসা।
এক গবেষক বলছিলেন, আমরা শুধু ব্যাকটেরিয়ার আচরণ নয়। মানুষের ধৈর্য, ভয়ের সঙ্গে বাঁচার লড়াইও খতিয়ে দেখছি।
একবার ভাবুন তো! সেই ১৩৪৭ সালে যদি একটি রোগ আস্তে আস্তে দেহে ঢুকে পড়ে পরিবারের সবাইকে কাবু করত, তখন সেই সময়ের মানুষ কতটা অসহায় ছিল! না ছিল পরীক্ষা, না ছিল ওষুধ। শুধু ছিল প্রার্থনা আর মৃত্যুর প্রতীক্ষা।
আজ আমরা আধুনিক হয়েছি, চিকিৎসা আমাদের পাশে আছে। তবু ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি ক্ষুদ্র জিনের বদল পুরো মানবজাতির ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আর সেই গল্প এখনো শেষ হয়নি। গবেষণাগারে লেগে আছে বিজ্ঞানীরা, যাতে আর কোনো দিন ইতিহাসের সেই ভয়াবহ অধ্যায় ফিরে না আসে।
—সিএনএন










