মানুষ যুগ যুগ ধরে তাকিয়ে থেকেছে আকাশের দিকে। খালি চোখে দেখা না গেলেও, যারা মহাকাশ নিয়ে ভাবেন, তাদের কাছে অ্যান্ড্রোমিডার ব্যাপ্তি বিশাল হলেও চিন্তাজগতে এটি কাজ করে প্রতিবেশীর মতো। অনেক দিনের ধারণা ছিল, আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে একদিন এই অ্যান্ড্রোমিডার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে। যদিও সেই অপেক্ষা ছিল আরো প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছরের মতো। কিন্তু নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে, এমন সংঘর্ষ আদৌ ঘটবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

নতুন এক গবেষণায় হাবল ও গাইয়া টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ১ লাখ বার সিমুলেশন চালিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, আগামী ১০ বিলিয়ন বছরের মধ্যে এই সংঘর্ষের সম্ভাবনা ৫০ শতাংশেরও কম। আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন বছরের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।

তাহলে কেন বদলে গেল এত দিনের হিসাব? গবেষকেরা বলছেন, এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে আরো কিছু ছোট গ্যালাক্সি, যেগুলো আমাদের স্থানীয় গ্রুপে রয়েছে। এর মধ্যে আছে লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড (এলএমসি) ও ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি (এম৩৩)। এই এলএমসি অ্যান্ড্রোমিডার বিপরীতে মিল্কিওয়েকে সরিয়ে দিচ্ছে। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।

এই গবেষণায় ২২টি ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড ও সম্ভাব্য ভুল ধরে হিসাব করা হয়েছে। অনেক সিমুলেশনে দেখা যায়, গ্যালাক্সি দুটি একে অন্যের পাশে এসে আবার ফিরে যায়। আবার অনেক সময় গ্যালাক্সি দুটি সংঘর্ষে জড়ানোর মাঝের সময়ের ব্যাপ্তি বেশি হয়, তখন তৈরি হয় নতুন তারকা ও শক্তিশালী বিকিরণ। আর এতে একত্রিত হয়ে তৈরি হয় একটি বিশাল উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সি। তবে অনেক সিমুলেশনে দেখা গেছে, গ্যালাক্সি দুটি একে অপরের পাশ দিয়ে চলে গেলেও বড় কোনো ক্ষতি হয় না।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মিল্কিওয়ের সঙ্গে এলএমসির সংঘর্ষ আগামী ২ বিলিয়ন বছরের মধ্যেই ঘটার প্রায় নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গ্যালাক্সি ধ্বংস হবে না। তবে কেন্দ্র ও চারপাশের গঠন বদলে যেতে পারে।

তবে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অন্য কিছুর ওপর। যেমন— সূর্যের মৃত্যু। আরো ৫ বিলিয়ন বছর পর যখন সূর্য রূপ নেবে এক লাল দানবে, তখন পৃথিবীসহ কাছাকাছি গ্রহগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। মিল্কিওয়ে-অ্যান্ড্রোমিডার সংঘর্ষ নাও ঘটতে পারে। কিন্তু সূর্য একদিন নিশ্চয়ই নিজের আলোতে আমাদের শেষ করে দেবে।

—সিএনএন