ঔপনিবেশিক আমলে জিম্বাবুয়ের বিদ্রোহীদের শুধু নির্মমভাবে দমনই করা হয়নি তাদের দেহাবশেষ ট্রফি বানিয়ে নিয়ে যায় ব্রিটিশরা। এর এক শতাব্দি পর সেই সব স্বদেশীদের শেষ চিহ্নের দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তাদেরই একজন এমবুয়া নেহান্দা। যার দেহাবশেষ অনেকদিন ধরে খোঁজা হচ্ছে ব্রিটেনের যাদুঘর ও গবেষণাগারে।
১৮৯৬-৯৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম চিমুরেঙ্গা বা জিম্বাবুয়ের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠে দেশজুড়ে। যদিও সফল হয়নি সেই দফায়। খুব নির্মম হাতে তা দমন করা হয় বিদ্রোহ।
এমবুয়া নেহান্দা ছিলেন সেই বিদ্রোহীদের অন্যতম প্রধান মুখ। তাকে শুধু বিপ্লবী হিসেবে দেখলে ভুল হবে, ছিলেন জিম্বাবুয়ের আধ্যাত্মিক নেত্রী। ১৮৯৮ সালে দেশটির বর্তমান রাজধানী হারারেতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ঔপনিবেশিক শক্তি। মৃত্যুর আগে তার উক্তি ছিল, ‘আমার হাড় পুনরায় জেগে উঠবে’।
পরবর্তীতে এই উক্তি ব্রিটিশ অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শ্লোগানে পরিণত হয়। ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা লাভ করে জিম্বাবুয়ে। হারারেতে এমবুয়া নেহান্দার ভাস্কর্য স্থাপিত হয় ২০২১ সালে।
অনেক দিন ধরে নেহান্দাসহ ঊনিশ শতকের উপনিবেশবিরোধী সকল বিপ্লবীদের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে জিম্বাবুয়ে সরকার।
সম্প্রতি দেশটির প্রতিনিধি দল জানায়, ঔপনিবেশিক যুগে জিম্বাবুয়ে থেকে নিয়ে যাওয়া দেহাবশেষ ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে লন্ডনের নেচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি।
যাদুঘরে ২৫ হাজার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকওয়ার্থ ল্যাবরেটরিতে ১৮ হাজার দেহাবশেষ রয়েছে। তাদের উৎস বহুমাত্রিক। প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে আসা কঙ্কাল যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ঔপনিবেশিক যুগে মৃত্যুদণ্ডের পর যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া দেহাবশেষ।
কেন নিয়ে আসা হয়েছিল এই সব দেহাবশেষ? কখনো গবেষণার জন্য, কখনো নেহায়েত বিজয়ের নিদর্শন হিসেবে। নেচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে অন্তত ১১টি দেহাবশেষ জিম্বাবুয়ে থেকে আসা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট করে না বললেও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ কয়েকটি নমুনা থাকার কথা স্বীকার করেছে। যদিও সেখানে এমবুয়া নেহান্দার দেহাবশেষের উপস্থিতি নিশ্চিত নয়।
জিম্বাবুয়ে কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে নেহান্দার দেহাবশেষ বিদ্যমান। আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই ন্যাচালাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির সাথে তাদের সমঝোতা হয়। অন্যান্য নেতাদের জন্যও এই অনুসন্ধান তারা অব্যাহত রাখবে বলেই জানিয়েছে।










