১৩৩৭ সালের এক সন্ধ্যা। লন্ডনের পুরনো সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালের সামনে তখনো মানুষের ভিড়। ঠিক সেই সময় এক দল লোক ঘিরে ধরে এক ধর্মযাজককে। নাম জন ফোর্ড। গলা ও পেটে ছুরি মেরে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ফোর্ড।
প্রায় সাতশ বছর পর নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে— এই হত্যাকাণ্ড নিছক কোনো ছিনতাই বা হিংস্রতার ঘটনা ছিল না। বরং এর পেছনে ছিল প্রেমঘটিত সম্পর্ক, অপমান আর প্রতিশোধের এক জটিল গল্প।
ধর্মযাজক ফোর্ড ছিলেন স্থানীয় ধনী ও প্রভাবশালী নারী এলা ফিটজপেইনের সাবেক প্রেমিক। ইতিহাস বলছে, ফোর্ড এক সময় একটি অপরাধীচক্রে যুক্ত ছিলেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন ফিটজপেইন নিজেই। তারা ফ্রান্স-নিয়ন্ত্রিত এক মঠ থেকে গবাদিপশু লুট করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরবর্তী সময়ে ফোর্ড হয়তো গির্জার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই চক্রের খবর ফাঁস করে দেন।
ফলস্বরূপ, ১৩৩২ সালে ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ এক চিঠি থেকে ফিটজপেইনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রেম ও যাজকদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানা যায়। এতে তাকে প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দেয়া হয় জনসমক্ষে অপমানজনক শাস্তি— মোমবাতি হাতে তাকে হাঁটতে হয় সলসবেরি ক্যাথেড্রালের মধ্য দিয়ে, তার গহনা পরা নিষিদ্ধ করা হয় সাত বছরের জন্য।
গবেষক ম্যানুয়েল আইসনারের মতে, এই অপমানই প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে তোলে ফিটজপেইনের মনে। তিনি তার ভাই, দুই ভৃত্য ও এক যাজককে ফোর্ডকে হত্যার জন্য প্ররোচিত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যার সময় ফোর্ডকে কথায় ব্যস্ত রাখেন যাজক, ফিটজপেইনের ভাই তার গলা কাটেন আর চাকরেরা পেটে ছুরি বসায়।
অভিযুক্তদের মধ্যে শুধু ভৃত্য হিউ কোলন সাজা পান, বাকিরা রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর এই ঐতিহাসিক সূত্রগুলোর সংযোগ ঘটিয়েই গবেষকরা ফোর্ডের হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও জটিল জাল উন্মোচন করতে সক্ষম হন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণায় বলা হয়, মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে নারীরা যে কেবল নিপীড়নেরই শিকার ছিলেন এমন না। সে সময়েও নারীদের প্রতিশোধ নেয়ার ঘটনা একেবারে বিরল নয় কিন্তু!
— সিএনএন










