ইয়াঙ্গুন ভিলা। এই ঐতিহাসিক বাড়িতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। এখন আদালতের আদেশে বাড়িটি বিক্রি হতে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে উঠে এল সম্পত্তি ভাগাভাগি প্রশ্নে ভাইয়ের সঙ্গে সু চির বিরোধ। সেই তথ্য উঠে এসেছে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে।
ইয়াঙ্গুনের ইউনিভার্সিটি এভিনিউতে ইনিয়া হ্রদের তীরে অবস্থিত এ ভিলা। ঔপনিবেশিক আদলে নির্মিত বাড়িটি মিয়ানমারের অনেকের কাছেই ‘গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের’ প্রতীক।
অনেক বছর ধরেই বাড়িটির মালিকানা নিয়ে বড় ভাই অং সান উয়ের সঙ্গে সু চির আইনি লড়াই চলছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রকৌশলী উ ২০০০ সালে আদালতের দারস্থ হন। কয়েক দফা তদন্তের পর সর্বশেষ শুনানি হলো সু চির এবারকার কারাবন্দি অবস্থাতেই।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সু চির সরকারকে উৎখাত করে। তখন থেকেই তিনি বন্দি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেহায়েত কম না। যার অধিকাংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করা হয়।
গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অং সান উ দাবি করেন, আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত মূলত ২০১২ সালের নির্দেশনারই সমর্থন। তখন বক্তব্য ছিল সম্পত্তি সমানভাবে বণ্টিত হবে। যদি আমরা বাটোয়ারায় একমত হতে না পারি; তাহলে নিলামে উঠানো হবে। বিক্রির পর দুজনকে ভাগ করে দেয়া হবে প্রাপ্ত অর্থ।
অবশ্য ইয়াঙ্গুন ভিলা বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কিছু বলতে নারাজ উ। একান্ত ঘরোয়া বিষয় বলে এড়িয়ে গেছেন। এমনকি বাড়িটির ঐতিহাসিক তাৎপর্যও স্বীকার করেন না তিনি।
মিয়ানমারের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক অং সান ১৯৪৭ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন। সরকার তার স্ত্রী খিন চিকে দুই একর সম্পত্তি প্রদান করেন। উ এবং সু চি তাদের সন্তান। খিন চি মারা যান ১৯৮৮ সালে; মায়ানমারে গণতন্ত্রপন্থীদের অভ্যুত্থানের কিছুদিন পরেই। সেই অভ্যুত্থানের সামনে ছিলেন সু চি।
সু চিকে প্রথম গৃহবন্দি করা হয় ১৯৮৯ সালে। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ওই বাড়িতেই। তখন প্রতিদিন বিবিসি শুনতেন, বই পড়তেন ও মেডিটেশন করতেন। ছুটির দিনে তিনি বাড়ি থেকেই ভাষণ দিতেন। তার কথা শুনতে গেটের কাছে জমত ভিড়। পরবর্তীতে বারাক ওবামা ও হিলারি ক্লিনটন ও বাড়িতে গিয়েই অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করেন। ২০১২ সালে কারামুক্তির পর থেকে তিনি আর ইয়াঙ্গুন ভিলায় থাকেননি।
ভিলাটি নাজুক অবস্থায় থাকলেও অং সান উয়ের আইনজীবীর অনুমিত মূল্য ৯ কোটি ডলার। তিনি আদালতের নথি দেখাতে রাজি নন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও রায়কে উয়ের পক্ষে বলেই প্রচার করেছে।
গত সপ্তাহে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) বাড়িটিকে জাতীয় ঐতিহ্য বলে ঘোষণা করে। সেই হিসেবে বিক্রয় বা ধ্বংস করা যাবে না। কিন্তু যতক্ষণ না সামরিক বাহিনীকে মসনদ থেকে সরানো যায়, ততক্ষণ এর বাস্তবায়ন সম্ভব না। এনইউজিয়ের মুখপাত্র ড. সাসা বলেন, এটি কেবল বাড়ি বা সম্পত্তি না। এমন স্থান সু চি তার জীবনের ১৫ বছর অবরুদ্ধ ছিলেন। মিয়ানমারের জনতার কাছে বাড়ির আশার শক্তিশালী প্রতীক।
গত ১৮ মাস ধরে সু চি অনেক কিছুরই মুখোমুখি হয়েছেন। আদালত তার মধ্যে একটি। সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত আদালতে হরেক রকম অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তার নামে। অভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে ২০ বছরের জন্য কারাগারে রাখার নির্দেশনা আছে। আরো অভিযোগে বিচার তো চলছেই। ফলে সেই মেয়াদ আরো কয়েক দশক বাড়বে না; এমন নিশ্চয়তা নেই।










