সকাল ৯টা ১৫ মিনিট। মধ্য ওয়েলসের উস্ক উপত্যকার শান্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ে যায় একটি মাছমুরাল— বাংলাদেশে যাকে উখস নামে ডাকা হয়, ইংরেজিতে অসপ্রে নামে। পাখিটির লক্ষ্য—নিকটবর্তী জলাধারে দিনের প্রথম শিকার। ঘণ্টাখানেক পর সে ঠোঁটে জীবন্ত একটি মাছ নিয়ে ফিরে আসে। বাসায় স্ত্রী পাখিটির সঙ্গে মাছ ভাগ করে খায়, তারপর দুজনে পালা করে বসে পড়ে তিনটি ডিমে তা দেয়ার জন্য।
এই দৃশ্য এখন নিয়মিত ঘটনা হলেও, প্রকৃতিবিদদের চোখে এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রায় দুই শতাব্দী পর এই অঞ্চলে কোনো মাছমুরাল জুটি প্রাকৃতিকভাবে বাসা বেঁধেছে এবং ডিম দিয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে আসা মাছমুরাল জুটির সবচেয়ে নতুন দৃষ্টান্ত—যাদের কৃত্রিমভামে এখানে স্থানান্তর করা হয়নি।
২০২৩ সালে এই অঞ্চলের একটি ওক গাছের মাথায় প্রথম একটি বাসা লক্ষ্য করা যায়। তবে তাতে কোনো ডিম ছিল না। ২০২৪ সালে সেই একই বাসায় এক জুটি ফিরে এলেও তারা ডিম দেয়নি। এবার ২০২৫-এর বসন্তে, সেই জুটিই আবার ফিরে এসেছে এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার তারা তিনটি ডিমও দিয়েছে।
এই সুখবর সামনে আসার পর থেকেই স্থানীয় ‘উস্ক ভ্যালি অসপ্রেস’ নামের একটি সংস্থা ওয়েবক্যামের মাধ্যমে পাখিযুগলের বাসা পর্যবেক্ষণ করছে। দর্শনার্থীদের দূরে রাখতে ৪০০ মিটার দূরে খালের পাড় থেকে ওয়াচার দল নজরদারি করছে এবং এলাকাটি সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রতিদিন নিরবচ্ছিন্ন নজর রাখছেন এই পাখিযুগলের ওপর। সেই দলের সদস্য লুইস মিল্ন বলেন, ‘তাদের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, যেন প্রকৃতি তার হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে এনেছে। আমরা সবাই একরকম মুগ্ধ হয়ে গেছি।’
তিনি জানান, মাছমুরালরা একবার জুটি বাঁধলে সাধারণত আজীবন একসঙ্গেই থাকে। একটি বাসা কয়েক বছর ব্যবহার করে। গ্রীষ্ম শেষে বড় পাখিগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য বাচ্চারাও পশ্চিম আফ্রিকায় উড়ে যাবে শীত কাটাতে। আশ্চর্যজনকভাবে, সেই পথ তারা জন্মসূত্রেই জানে।
পাওইসের এই অঞ্চলটি মাছমুরালের জন্য আদর্শ বাসস্থান। তালিবন্ট জলাধার, উস্ক নদী ও ল্যাঙ্গোর্স হ্রদ—তিনটিতেই রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ। এই উপত্যকার প্রাকৃতিক নির্জনতা, নদীর প্যাঁচানো ধারা ও খোলামেলা আকাশ যেন পাখিদের জন্য স্বর্গস্বরূপ।
স্থানীয় গবেষকরা জানান, উস্ক উপত্যকার এই জুটিই এখন যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দক্ষিণে প্রাকৃতিকভাবে বাসা বানানো মাছমুরাল জুটি। ইংল্যান্ডের পুল হারবারে যে মাছমুরালরা রয়েছে, তারা মূলত স্কটল্যান্ড থেকে স্থানান্তরিত।
উস্ক ভ্যালি ওসপ্রেইসের চেয়ারম্যান অ্যান্ডি কিং বলেন, ‘আমরা এখনো আশাবাদী। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে এটা নিঃসন্দেহে দারুণ খবর যে তারা এখানে এসেছে এবং এখানকার পরিবেশ যে এখনো জীবনের জন্য উপযোগী, সেটাও প্রমাণিত হয়েছে।’
সূত্র— দ্য গার্ডিয়ান।










