পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন শুক্র গ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। কিন্তু ওই অভিযান ব্যর্থ হয়। মহাকাশযানের একটি অংশ তখন থেকেই পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘কসমস ৪৮২’ নামের মহাকাশযানের অংশটি আগামী সপ্তাহেই পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে চলেছে।
১৯৭২ সালে ‘ভেনেরা’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি যানটি উৎক্ষেপণ করে। উদ্দেশ্য ছিল শুক্র গ্রহের চরম তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের মতো পরিবেশ পরীক্ষা করা। এজন্য যানটি বিশেষভাবে শক্তিশালী তাপ প্রতিরোধী আবরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যানটি শুক্রের পথে রওনা হতে পারেনি। তখন থেকেই এটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গবেষকদের ধারণা, যে অংশটি পৃথিবীতে ফিরে আসছে সেটি সম্ভবত ‘এন্ট্রি ক্যাপসুল’। এটি মূলত গ্রহে অবতরণের সময় টিকে থাকার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু এটি প্রবল তাপ ও চাপ সহ্য করতে সক্ষম, তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে অংশটি বায়ুমণ্ডলে ঢোকার পরেও ভেঙে না পড়ে আস্ত থাকতে পারে।
ঠিক কবে ও কোথায় যানটি আছড়ে পড়বে তা নির্দিষ্ট করে জানানো না হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী দিনটি ১০ মে হতে পারে। হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. জোনাথন ম্যাকডাওয়েল বলেছেন, যানটি বায়ুমণ্ডল পার হয়ে সরাসরি মাটিতে আছড়ে পড়তে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে এতে ক্ষতির আশঙ্কা খুবই কম।
দ্য অ্যারোস্পেস করপোরেশন জানিয়েছে, যানটি ক্ষতি করার সম্ভাবনা প্রায় ২৫ হাজারে ১ ভাগ। এটি ৫২ ডিগ্রি উত্তর থেকে ৫২ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যেকোনো জায়গায় পড়তে পারে। ওই এলাকার মধ্যে রয়েছে এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশ। তবে যেহেতু পৃথিবীর প্রায় ৭০ ভাগ পানি, তাই এটি সমুদ্রেই পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
যদি যানটি কোথাও পড়ে, তাহলে সেটি না ছোঁয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ক্ষতিকর জ্বালানি বা রাসায়নিক থাকতে পারে, যা বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই এ ধরনের কিছু দেখলে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, মহাকাশযানটি অন্য দেশে পড়লেও মালিকানা রাশিয়ারই থাকবে।










