সর্বশেষ ১৮৮২ সালে
দেখা পাওয়ার তথ্য মেলে। এরপর ১৪০ বছর ধরে নেয়া হয়েছিল, পাখিটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এখন তার দেখা মিলল পাপুয়া নিউ গিনির ফারগুসন দ্বীপে!
কালো ঘাড়ের বিশেষ
বৈশিষ্ট্যযুক্ত রঙিন পাখিটি এক প্রজাতির কবুতর, নাম ‘ব্ল্যাক-নেপড ফেজেন্ট-পিজিওন’।
অবশ্য বিজ্ঞানীদের কাছে এই পাখি অদৃশ্য হয়ে থাকলেও স্থানীয়রা ঠিকই জানতেন এর হদিস।
পাপুয়া নিউ গিনির
জাতীয় জাদুঘর, কর্নেল ইউনিভার্সিটির পাখিবিদ্যা গবেষণা বিভাগ এবং আমেরিকার পাখি সংরক্ষণ
সংস্থার একদল গবেষকের সম্মিলিত চেষ্টায় নতুন করে আবিষ্কৃত হলো পাখিটি।
এবড়োথেবড়ো, রুক্ষ
ও পাহাড়ি অঞ্চল ফারগুসন দ্বীপ। ফলে গবেষকদের জন্য পুরো অভিযান ছিল বেশ কঠিন। ক্লান্ত
বিজ্ঞানীরা যখন ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ভাগ্য প্রসন্ন হয়। দেখা মেলে কাঙ্ক্ষিত
কবুতরের।
ব্ল্যাক-নেপড ফেজেন্ট-পিজিওন মাটিতে বসবাসকারী লম্বা লেজবিশিষ্ট রঙিন পাখি। বিজ্ঞানীদের এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই তার ব্যাপারে। স্থানীয়দের কাছে পাখিটি ‘আউয়ো’ নামে পরিচিত। মূলত তাদের দেয়া তথ্যই বিজ্ঞানীদের পথ দেখিয়েছে।
তথ্যের ভিত্তিতেই
সম্ভাব্য আটটি জায়গায় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। আরো ১২টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় দ্বীপের
সবচেয়ে উঁচু পর্বত কিলকেরানে। তারপরও পাখিটির দেখা মিলছিল না। যেন শুধু কল্পনায় তার
বসবাস।
শেষ অব্দি ডাক শুনে
স্থানীয় শিকারি অগাস্টিন গ্রেগরি পাখিটিকে শনাক্ত করেন। তার কথা অনুযায়ী কোয়ামা নদীর
তীরে ক্যামেরা স্থাপন করেন বিজ্ঞানীরা। ফেরার দুদিন আগেই ধরা দিল সাফল্য। দেখা মিলে
রঙিন কবুতরের।
অভিযানের নেতৃত্বে
ছিলেন আমেরিকান বার্ড কনজারভেন্সির লস্ট বার্ড প্রোগ্রামের প্রধান জন সি মিটারমেয়ার।
এত চেষ্টা-চরিত্রের ফলাফল বোঝাতে তিনি রূপকথার প্রাণীর আশ্রয় নেন। মিটারমেয়ার বলেন,
এক মাস ধরে খোঁজাখুঁজির পর ব্ল্যাক-নেপড ফেজেন্ট-পিজিওনের ছবি হাতে পাওয়া অনেকটা ইউনিকর্ন
খুঁজে পাওয়ার মতো।
এই সাফল্যে বিজ্ঞানীদের
পাশাপাশি স্থানীয়রাও বেশ উল্লসিত। তারাও অনেক দিন ধরে পাখিটিকে দেখতে পায়নি। নতুন অনুসন্ধান
সবাইকে আশাবাদী করে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পাখি ও প্রকৃতির সুরক্ষায় বিজ্ঞানীদের
সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তারা।
এ আবিষ্কারে উল্লসিত
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, হয়তো এমন অনেক পাখিই বেঁচে রয়েছে, যাদের আমরা বিলুপ্ত হিসেবে
গণ্য করছি।
এ অনুসন্ধান শুরু
২০১৯ সালে। ওই সময় দুই সপ্তাহব্যাপী জরিপ হয়। তখন পাখিটির কোন চিহ্ন না মিললেও স্থানীয়দের
থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। সেই সব তথ্য সাম্প্রতিক অভিযানে সাহায্য
করেছে।










