বড় বড় লাগেজ নিয়ে বিমানবন্দরের ভোগান্তিতে পড়তে কে চায়! তবুও দূরের যাত্রা মানেই বড় লাগেজ, এবং তা নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া। সাধারণ ক্ষেত্রে যাই হোক, যদি উদ্দেশ্য হয় বিশ্বভ্রমণ তাহলে তো বড় লাগেজ এড়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

এর মাঝে ভীষণ ব্যতিক্রম ব্রুক শোয়েনম্যান। মাত্র ১২ লিটারের একটি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বিশ্বময় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি ব্রুকের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিক শোয়েনম্যান একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন। সাইটটিতে তিনি সাধারণত নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভ্রমণপ্রিয়দের ব্যাগ ছোট রাখার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ভ্রমণে ব্যাগ হালকা রাখার বিষয়ে ব্রুক বলেন, ‌আমি আগে ৫৫ লিটারের দুটি ব্যাগ সামনে ও পেছনে ঝুলিয়ে ভ্রমণে বের হতাম। ৫৫ লিটার শুধু বড় নয়, তার থেকেও বেশি। আমি সবসময় চাইতাম ব্যাগ হালকা রাখতে। তবে বুঝতেই পারতাম না, মানুষ কীভাবে ৩০ লিটারের ব্যাগে সবকিছু ভরে ফেলতে পারে! 

অবশ্য পরে আমি বুঝতে পারি, আসলে কষ্ট করে বয়ে নেয়া জিনিসগুলোর অধিকাংশই ব্যবহার করা হয়নি; অবাক করা তথ্যটিও ব্রুকের। 

একজন ভ্রমণকারী হিসেবে তিনি মনে করেন, হালকা ব্যাগ ভ্রমণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‌আগে বড় ব্যাগ নিয়ে আমি খুব ঝামেলায় থাকতাম। এয়ারপোর্ট, বাস, ট্রেন, সবখানে ব্যাগ নিয়ে আমাকে অতিরিক্ত ঝামেলায় পড়তে হতো।

২০১০ সাল থেকেই তিনি ব্যাগ হালকা করার উপকারিতা বুঝতে পারেন। যা পরবর্তীতে ব্রুক শোয়েনম্যানের লেখালেখির বিষয় হয়ে উঠে।

সাধারণত তার ব্যাগে থাকে পোশাকের প্যাকিং কিউব, ভাঁজ করা জুতা, স্মার্টফোনের জন্য একটি মিনি কিবোর্ড এবং প্রয়োজনীয় প্রসাধন সামগ্রীর ছোট বক্স।

২০১৬ সাল নাগাদ শোয়েনম্যান হালকা ব্যাগ নিয়ে ভ্রমণে ঝাঁনু হয়ে উঠেন। তখন একবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য বের হন তিনি। সিডনির বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য যখন উবারে উঠেছেন, তখন চালক তাকে কোনো টার্মিনালের যাত্রী ভেবে ভুল করেছিলেন। যখন জানতে পারলেন, শোয়েনম্যান তিন সপ্তাহের জন্য আমেরিকা ভ্রমণে বের হয়েছেন, তখন তো রীতিমতো চমকে গেলেন।

এমনকি ছোট ব্যাগ নিয়ে বড় ভ্রমণে বের হতে দেখে তার বন্ধুরাও চমকে যেত। সামান্য একটি ল্যাপটপ মাপের ব্যাগেও ব্রুক শোয়েনম্যান ছোটখাট ভ্রমণের বিস্তারিত প্যাক করে ফেলতে পারেন। বলছিলেন, ছোট ব্যাগের অনেক সুবিধা আছে। এয়ারপোর্ট বা ট্রেন থেকে ছোট ব্যাগটি নিয়ে সোজা বেরিয়ে যাওয়ায় একটা মজা তো আছেই।

ব্লগিং শুরু করে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় তিনি এ বিষয়ে সেমিনার করতে শুরু করেন। শোয়েনম্যান বলেন, ‌সবাইকেই ব্যাগ ছোট রাখার এই বিদ্যা শেখানো সম্ভব। প্রথমে আমি ধাপে ধাপে তাদের প্যাকিংয়ের পরামর্শ দেই, পরে ব্যাগ গোছানোর জন্য বাড়ির কাজও দিয়ে থাকি।