অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চোখ ধাঁধানো আতশবাজি ও শোকের মধ্যে দিয়ে ২০২৬ সাল শুরু হয়েছে। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আনন্দ ও স্মরণের মিশ্র অনুভূতিতে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে মানুষ।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউস ও সিডনি হারবার ব্রিজকেন্দ্রিক আয়োজনে প্রায় ৪০ হাজার আতশবাজি ফোটানো হয়। হারবার ব্রিজ ও আশপাশের ভবনগুলো থেকে ছোড়া আতশবাজিতে প্রায় চার মাইল এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে। তবে উৎসবের মাঝেই ছিল শোকের আবহ। বন্ডি বিচে সাম্প্রতিক হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সিডনি হারবার ব্রিজে মেনোরার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় সাধারণ মানুষ মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকারপ্রধান বাসিন্দাদের নির্ভয়ে উৎসবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখানো হলেও সিডনির বাসিন্দারা তা মেনে নেবে না। কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম এ শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বদলে দিতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, সিডনির দুই ঘণ্টা আগে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। বিশ্বের প্রথম বড় শহর হিসেবে অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ার থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আতশবাজি ফোটানো হয়। ২৪০ মিটার উঁচু টাওয়ারটির বিভিন্ন তলা থেকে টানা পাঁচ মিনিট ধরে এ প্রদর্শনী চলে। এরও আগে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ কিরিটিমাটি বিশ্বের প্রথম স্থান হিসেবে ২০২৬ সালে প্রবেশ করে। ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হওয়া কিরিবাতি রাষ্ট্রের এ দ্বীপে জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার।
এছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ধারাবাহিকভাবে নতুন বছর বরণ করা হয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে উৎসব হয়। তবে হংকংয়ে এবার বড় ধরনের আতশবাজির আয়োজন রাখা হয়নি। গত নভেম্বরে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১৬১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে সেখানে শুধু আলোকসজ্জা ও সীমিত সংগীত আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রপ্রধান নববর্ষের ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূত করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউরোপের দেশগুলোতেও নতুন বছরের উৎসব শুরু হয়। জার্মানির বার্লিনে তুষারপাতের মধ্যেই মানুষ ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের সামনে আনন্দ প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে থেমস নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী আতশবাজি প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেয়া হয়। সেখানে প্রায় ১ কোটির বেশি মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির পর যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল ও আফ্রিকান দেশ ঘানাতেও মধ্যরাতে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানোর আয়োজন চলছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে আনন্দ, শোক ও প্রত্যয়ের একসঙ্গে প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হচ্ছে।










