চার্লস ডারউইন বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিবর্তনবাদ
তত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ১৮৩১ সালে সমুদ্রযাত্রায় বের হন।
তখন বয়স মাত্র ২২ বছর। তরুণ ডারউইন এইচআইএস বিগলে চড়ে দুই বছরে অবিস্মরণীয় সব আবিষ্কারের
মুখোমুখি হন। সেই যাত্রার বর্ণনা নিয়ে ‘দ্য ভয়েজ অব দ্য বিগল’ নামের একটি বইও প্রকাশ
করেছিলেন।
এক প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানায়,
প্রায় দুই শতাব্দি পর এসে ডারউইনের পদচারণা অনুসরণ করছে ‘ডারউইন২০০’ নামের প্রকল্প।
১৮ শতকের মতোই পালতোলা জাহাজ নিয়ে দুই বছরের জন্য সমুদ্রযাত্রা করছেন একদল অভিযাত্রী।
ব্যবহার হচ্ছে ঐতিহাসিক একটি ডাচ জাহাজ, নাম ওস্টারশেল্ড।
এই প্রকল্পে বিশ্বের প্রায় ৩২টি সমুদ্র বন্দরে ঘুরে দেখানো হবে। যার মূল উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের পরিবেশ নেতা ও বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করা। এ পর্যন্ত ১৮-২৫ বছরের মধ্যে ৫০ জন তরুণ প্রকৃতিবিদকে অভিযানের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে যোগ দেবেন আরো অনেকে। যার জন্য তাদের কোনো পূর্বাভিজ্ঞতার প্রয়োজন পড়েনি।
৩২টি বন্দরে নোঙর করবে জাহাজটি। ম্যাপ: ইউএন ডট অর্গ
যুগান্তকারী এ প্রকল্পে তাহিতি, কুক
দ্বীপপুঞ্জ, কেপ টাউন ও ফকল্যান্ডের মতো জায়গায়ও ভ্রমণ করা হবে। যেখানে এখনো ডারউইনের
দেখা নানান ধরনের জীবন্ত নমুনা বিচরণ করছে।
‘ডারউইন২০০’ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা স্টুয়ার্ট
ম্যাকফারসন জানান, চার্লস ডারউইনের সমুদ্রযাত্রাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল অনুপ্রেরণা
হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০টি দেশের ২০০ জন তরুণ প্রকৃতিবিদকে শনাক্ত করছি
যারা ভবিষ্যতের নেতা হয়ে উঠবে ও বিশ্বে পরিবর্তন আনতে পারবে।’
৩২টি বন্দর পরিদর্শন ছাড়াও পুরো দুই
বছরের সমুদ্রযাত্রায় নানা ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচারের
মাধ্যমে স্থলভাগের মানুষও অভিযাত্রীদের সঙ্গে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া ডারউইন২০০ ওয়েবসাইটে
পুরো অভিযানের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, আগামীকাল সোমবার (১৪ আগস্ট) ইংল্যান্ডের প্লাইমাউথে ন্যাশনাল মেরিন অ্যাকোয়ারিয়ামে একটি ইভেন্টের মাধ্যমে এই সমুদ্রযাত্রার উদ্বোধন হবে। এখান থেকে ২৪ জন ক্রু নিয়ে যাত্রা করবে ওস্টারশেল্ড।
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
অ্যান্টিক এ জাহাজ নির্মিত হয় ১৯১৭
সালে। শতাব্দিব্যাপী পণ্য নিয়ে বিশ্বের অনেক বন্দরে এটি নোঙর করেছে। জাহাজটির ক্যাপ্টেন
গারবান নাব বলেন, ‘এটি পণ্যবাহী জাহাজ ছাড়া বিশেষ কিছু ছিল না।’
তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাহাজটি
চালিয়েছেন। গারবান বলেন, ‘অন্য যেকোনো ভ্রমণের চেয়ে এটি একদম আলাদা। পানি, বাতাস ও
আবহাওয়া কাছাকাছি থাকবেন। নক্ষত্র দেখে পথ চলবেন। যখন আপনি গন্তব্যে পৌঁছাবেন, মনে
হবে কিছু একটা অর্জন করেছেন। যা কিন্তু বিমানের মতো নয়!’
ওস্টারশেল্ডেরও রয়েছে বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
কার্ডিফের কয়লা, মরক্কোর কমলা বা বাল্টিক কাঠ; কী বহন করেনি জাহাহটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সমুদ্র মাইন ও অনেক ঝড় থেকে বেঁচে ফিরেছে। এবার ডারউইনের পথ ধরে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি
হতে যাচ্ছে জাহাজটি।










