বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল কলা এখন জলবায়ু সংকটের কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড জানিয়েছে, চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৮০ সালের মধ্যে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রায় ৬৭ শতাংশ এলাকা কলা চাষের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। খবর— দ্য গার্ডিয়ান।

‘গোয়িং বানানাস: হাউ ক্লাইমেট চেঞ্জ থ্রেটেনস দ্য ওয়ার্ল্ডস ফেভারিট ফ্রুট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু সংকটজনিত ছত্রাক এবং কীটপতঙ্গের কারণে গুয়াতেমালা, কোস্টারিকা, কলোম্বিয়ার মতো কলা উৎপাদনকারী দেশগুলোতে ফলন হ্রাস পাচ্ছে এবং প্রান্তিক কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বিশ্বব্যাপী কলা চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ফসল এবং সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফল। প্রায় ৪০ কোটির বেশি মানুষ প্রতিদিনের ক্যালরির একটি বড় অংশ কলা থেকে পান। তবে কলা চাষে সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল অঞ্চল লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, যা চরম জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবেও বিবেচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাভেনডিশ জাতের কলা সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়, কিন্তু এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরিমিত তাপমাত্রা ও পানির ভারসাম্য না থাকলে এবং ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে পাতার ক্ষতি হলে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া ব্ল্যাক লিফ স্পট ও ফুসারিয়াম ট্রপিক্যাল রেস-৪ এর মতো ছত্রাকও কলা গাছ ধ্বংস করছে, যা মাটির মাধ্যমে দ্রুত ছড়াচ্ছে।

গুয়াতেমালার কলা চাষি অরেলিয়া পপ শো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ফসল মেরে ফেলছে। আমরা কিছু বিক্রি করতে পারছি না। আমার বাগান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে—এটা আমার জন্য মৃত্যুর সমান।’

ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রতিবেদনে আহ্বান জানানো হয়েছে, যেসব ধনী দেশ সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ ঘটিয়ে এই সংকট সৃষ্টি করছে, তারা যেন ঝুঁকিতে থাকা কৃষকদের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করে।

প্রতিবেদনের মূল বার্তা হিসেবে সংস্থার নীতি ও প্রচার পরিচালক ওসাই ওজিঘো বলেন, ‘কলা শুধু জনপ্রিয় ফল নয়, এটি লাখ লাখ মানুষের জন্য জীবনের অপরিহার্য খাদ্য। যারা জলবায়ু সংকট সৃষ্টি করেনি, তাদের জীবন ও জীবিকা আজ হুমকির মুখে।’